নুরের পথে বড় চ্যালেঞ্জ পটুয়াখালী-৩ আসনে বহিষ্কারেও অনড় বিএনপির তৃণমূল

হোম পেজ » পটুয়াখালী » নুরের পথে বড় চ্যালেঞ্জ পটুয়াখালী-৩ আসনে বহিষ্কারেও অনড় বিএনপির তৃণমূল
বুধবার ● ৭ জানুয়ারী ২০২৬


 

নুরের পথে বড় চ্যালেঞ্জ, পটুয়াখালী-৩ আসনে বহিষ্কারেও অনড় বিএনপির তৃণমূল

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা থেকে (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে জোট সিদ্ধান্তে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশ তার পক্ষে মাঠে নামেনি। বরং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের পক্ষেই প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন দুই উপজেলার অধিকাংশ নেতাকর্মী। দলীয় বহিষ্কারের ঘোষণাকেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

 

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দেওয়ার পর গত ৩০ ডিসেম্বর হাসান মামুনকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এর একদিন আগে হাসান মামুন দলের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। তবে বহিষ্কারের পরও মাঠ ছাড়েননি তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রায় সব পদধারী নেতা-কর্মী।

 

এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনে যারা একসঙ্গে ছিলাম, বিএনপি তাদের মাত্র ১২টি আসন ছেড়েছে। কিন্তু যেসব আসন ছাড়া হয়েছে, সেখানে স্থানীয় বিএনপির পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছে না জোট বা সমমনা দলের প্রার্থীরা। আমার এখানে একান্ত নিজস্ব লোকজন দিয়ে সব কমিটি করেছেন হাসান মামুন। তারা দলের চেয়ে হাসান মামুনকে বেশি আপন মনে করেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের চেয়েও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তার (হাসান মামুন) সিদ্ধান্ত।’

 

ভিপি নুর আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। দুই উপজেলার সাবেক নেতারা আমাকে সমর্থন দিলেও বর্তমান নেতৃত্ব বিরোধিতা করছে। এই সমস্যার সমাধান বিএনপিকেই করতে হবে। নইলে মিত্রদের মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থা কমবে এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলায় জটিলতা তৈরি হবে। আমার অবস্থান থেকে সার্বিক পরিস্থিতি বিএনপিকে জানানো হয়েছে, এখন তারা কী ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার বিষয়।’

 

তবে ভিপি নুরুল হক নুরের এই বক্তব্যে গুরুত্ব দিচ্ছেন না স্থানীয় বিএনপি নেতারা। গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত বিশ্বাস সাগরকন্যাকে বলেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি। এই ইউনিয়নেও ভিপি নুরুল হক নুরের চেয়ে হাসান মামুন বেশি ভোট পাবেন।’

 

গলাচিপা পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘জোট-মোট বুঝি না, আমরা গলাচিপাবাসী বুঝি হাসান মামুনকে। ৩৬ বছর ধরে তিনি মাঠে-ময়দানে দলকে শক্তিশালী করেছেন। তাকে ছেড়ে গেলে বেঈমানি করা হবে। আমরা ধানের শীষের বিপক্ষে না, আমরা ট্রাকের বিপক্ষে।’

 

গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘অন্য দলের লোক এনে এমপি বানানোর খেসারত আমরা আগেও দিয়েছি। ২০১৮ সালে গোলাম মাওলা রনিকে এনে এখানে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ফলাফল হলো- গত সাত বছরে এলাকায় তার চেহারাও আর দেখা যায়নি। সবকিছু বুঝে শুনেই আমরা হাসান মামুনের পক্ষে নেমেছি। দল যে ব্যবস্থাই নিক, শেষ পর্যন্ত তার সাথেই থাকব।’

 

দশমিনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, ‘সুখে-দুঃখে যে মানুষটাকে কাছে পেয়েছি তাকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ না করলে যদি বহিষ্কার হতে হয়, হব। কিন্তু তখন কেন্দ্রকে ভাবতে হবে- কতজনকে বহিষ্কার করবে। দুই উপজেলার প্রায় সব নেতাকর্মীই হাসান মামুনের পক্ষে।’

 

দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু বলেন, ‘এই জনপদ হাসান মামুনের জনপদ। একদিকে যেমন ভিপি নুরুল হক নুর আমাদের দলের লোক নন, তেমনি বিএনপির সমর্থন পেলেও তিনি তো ধানের শীষ নিয়ে আসেননি।’

 

দুই উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির তৃণমূলের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া ভিপি নুরুল হক নুরের জয় কঠিন হবে। গলাচিপা উপজেলায় একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে দশমিনা উপজেলায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন হাসান মামুন। সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটের সমীকরণে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির এই বিদ্রোহী প্রার্থী।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৪:২৬ ● ১০১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ