
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কর্মহীন জেলেদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণে জেলেপ্রতি ৫ কেজি কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দুই মাসে ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জেলেরা পেয়েছেন ৭৫ কেজি করে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ও শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চাল বিতরণের সময় এসব অভিযোগ সামনে আসে। সরেজমিনে দেখা যায়, দুজন জেলেকে ৫০ কেজির তিন বস্তা, অর্থাৎ মোট ১৫০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের প্রাপ্য ছিল ১৬০ কেজি। এতে প্রতিজন জেলে ৫ কেজি করে কম পেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ অভয়াশ্রম তেঁতুলিয়া নদীতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তায় সরকার মাসে ৪০ কেজি হিসেবে দুই মাসে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়। বাউফল উপজেলায় ৬ হাজার জেলের জন্য মোট ৪৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের মধ্যে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৫৫ জন জেলের জন্য ১১৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময় ফেব্রুয়ারিতে চাল বিতরণ না করে দুই মাস বিলম্বে তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচের নামে জেলেদের কাছ থেকে টাকা আদায়, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে নান্নু মিয়া বলেন, ‘আমাগো দুই মাসে ৮০ কেজি চাউল পাওনের কথা। কিন্তু দিছে ৭৫ কেজি। বাকি চাউল নাকি অন্যদের দিবে।’
ভুক্তভোগী জেলে হেলাল হাওলাদার বলেন, ‘প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়া নিজের লোকজনের মধ্যে চাল দেওয়া হয়েছে।’
৪ নম্বর ওয়ার্ডে পরিবহন খরচের কথা বলে জেলেদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য মো. জসিম হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে তিনি বলেন, ‘যে চাল কম দেওয়া হয়েছে, তা অন্য জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।’ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য অনুপস্থিত থাকায় সংরক্ষিত নারী সদস্যের স্বামী রিপন খান চাল বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘তালিকায় যাদের নাম ছিল, তাদেরই চাল দেওয়া হয়েছে।’
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য আবুল বশার মৃধা। তিনি বলেন, ‘বরাদ্দের তুলনায় জেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ৫ কেজি করে কম দিয়ে বাকি চাল অন্যদের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।’
দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার জানান, ‘সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় উপস্থিত থাকতে পারিনি, অন্যদিন চাল বিতরণের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ‘যেটুকু বরাদ্দ, সেটুকুই বিতরণ করতে হবে। ৫ কেজি করে কম দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’