গৌরনদীতে মাদকাসক্ত দুই ছেলের হাতে মা ও ভিক্ষুক নির্যাতন, যমজ ভাই গ্রেপ্তার

হোম » বরিশাল » গৌরনদীতে মাদকাসক্ত দুই ছেলের হাতে মা ও ভিক্ষুক নির্যাতন, যমজ ভাই গ্রেপ্তার
সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬


 

গৌরনদীতে মাদকাসক্ত দুই ছেলের হাতে মা ও ভিক্ষুক নির্যাতন, যমজ ভাই গ্রেপ্তার

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

 

বরিশালের গৌরনদীতে মাদকাসক্ত দুই ছেলের বিরুদ্ধে তাঁদের মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়িতে ভিক্ষা করতে আসা এক বৃদ্ধাকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যমজ দুই ভাই শিমুল আকন ও পলাশ আকনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মৃত শাহজাহান আকনের ছেলে শিমুল আকন ও পলাশ আকন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত।

 

রবিবার দুপুর ১টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকড়কাঠী গ্রামের মৃত মো. শাহজাহানের স্ত্রী ছবুড়া বেগম (৬০) ওই বাড়িতে ভিক্ষা করতে যান। এ সময় দুই ভাই তাঁকে ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

বৃদ্ধার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা মো. খোকন ও নাসির হোসেন মুঠোফোনে বিষয়টি গৌরনদী মডেল থানায় জানান।

 

খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেলের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিমুল ও পলাশকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

অভিযুক্তদের মা মুকুল বেগম বলেন, ‘আমার দুই ছেলে মাদকাসক্ত এবং তারা প্রায়ই আমাকে মারধর করে। মাদক সেবনের টাকার জন্যও তারা আমার ওপর নির্যাতন চালায়। তাদের ভয়ে আমি নিজের বাড়িতে থাকতে পারি না; আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়।’

 

প্রতিবেশী দুলু বেগম জানান, এ ধরনের ঘটনা এর আগেও বেশ কয়েকবার ঘটেছে। দুই ভাইয়ের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাঁরা স্থানীয়দের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া রাতে জিআই তারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় নির্যাতিত বৃদ্ধা ছবুড়া বেগম বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ০:৩৫:৩১ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ