
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
চরম দারিদ্র্যের কারণে ঘরভাড়ার বকেয়া ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করা বাগেরহাটের রামপালের সেই অসহায় নারী রেহানা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। তাকে খাবার, অর্থ সহায়তা ও থাকার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুন স্বামী পরিত্যক্তা। দুই সন্তানকে নিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। সংসারের খরচ চালাতে এবং ঘরভাড়ার বকেয়া পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে নিজের মাথার চুল বিক্রি করেন রেহানা। তার দুর্দশার চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে আসে।
ঘটনাটি জানার পর প্রতিমন্ত্রী রেহানার খোঁজখবর নেন এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা দেওয়া হয়।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি জানান, জেলা প্রশাসন ও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রেহানা খাতুনের জন্য থাকার আবাসন প্রকল্পে একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে খাবার ও অর্থ সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
সহায়তা পেয়ে রেহানা খাতুন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনুদান পেয়ে আমি খুবই খুশি। প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ। এই সহযোগিতার মাধ্যমে এখন কিছুটা ভালোভাবে চলতে পারব।’
প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে রেহানা ও তার দুই সন্তানের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসি, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা অপু রায়হানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা বলেন, সরকারের এমন সময়োপযোগী সহায়তা চরম অসহায় মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জাগায়।