
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কাউখালী (পিরোজপুর)
প্রায় ১৭ বছর ধরে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও স্থায়ী নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন সাগর হালদার (৩৭)। স্থায়ীকরণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ও দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এরই মধ্যে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সাগর হালদার পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাজার এলাকার মনিন্দ্র নাথ হালদারের ছেলে। তিনি ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও সহকর্মী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত স্থায়ীকরণ পরীক্ষায় অংশ নেন সাগর। পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় তিনি হতাশায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। দীর্ঘদিনের চাকরি স্থায়ী হওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
এর মধ্যে ২৮ জুলাই অফিসে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন সাগর। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
সাগরের স্ত্রী লক্ষ্মী মালো বলেন, ‘১৭ বছর একই পদে কাজ করার পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ার শঙ্কা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন। স্থায়ীকরণ পরীক্ষার পর সেই দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
মৃত্যুকালে সাগর স্ত্রী ও দুই বছর দুই মাস বয়সী জমজ দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারানো দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
দীর্ঘদিনের সহকর্মীর মৃত্যুতে ভান্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পরও আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরির অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক চাপে রাখে।
তবে সাগর হালদারের ব্রেন স্ট্রোক ও মৃত্যুর সঙ্গে চাকরির দুশ্চিন্তার সরাসরি চিকিৎসাগত সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের ব্যক্তিগত অভিমত জানিয়েছেন।