
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) সংসদীয় আসনে ৫৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। দিনভর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাউফল উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৫টি।
এ আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই কেন্দ্রীভূত ছিল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মধ্যে। শুরু থেকেই এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা ও উত্তাপ ছিল তুঙ্গে।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মালেক আনোয়ারী এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হাবিবুর রহমানও নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালান। তবে ভোটের মাঠের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের তৎপরতায় কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। নারী ও প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রার্থীদের সমর্থকরা ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ জানান, ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।