
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক কেন্দ্র ভোটারশূন্য হতে থাকে। সকালে নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও বিকেলে এমন চিত্র কমে গেছে। তবে কিছু কেন্দ্রের সামনে স্বল্প সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি, ভ্রাম্যমাণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তত্ত্বাবধানে এবং নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার সব প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও দু’একজন প্রার্থীর অনুসারী ভোটার গোপন কক্ষ থেকে ব্যালটের ছবি তুলে আনছেন। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে ভোট দেওয়ার পর ছবি তোলার চেষ্টা করছেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে আপলোড হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে অনেক ভোটার ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, তবে নাম-ঠিকানা গোপন রাখার শর্তে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলাপাড়ার তুলাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সুনসান নিরবতার চিত্র দেখা গেছে। কক্ষে দুটি আনসার সদস্য এবং প্রার্থীর এজেন্ট ও কর্মকর্তারা আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। ধানখালী ডিগ্রী কলেজ ভোটকেন্দ্রেও প্রায় একই দৃশ্য; ভোটার লাইন ফাঁকা, চারপাশে নীরবতা।
এদিন সকালে কলাপাড়া পৌর শহরের খেপুপাড়া নেছার উদ্দিন কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাওহীদ ইসলাম (১৬) ও সহযোগী সোহাগ সিকদার (৪৬) আটক হন। সকাল ৯টায় কুয়াকাটা পৌর শহরের ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গোপন কক্ষে ছবি তোলার অভিযোগে বেলাল হোসেন (৪৬)কে আটক করা হয়। এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫০ লাখ টাকাসহ সন্দেহভাজন হিসেবে কলাপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজল মৃধাকে (৪১) কোস্টগার্ড আটক করে। পরে অবশ্য এই টাকার নির্বাচনের সাথে কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কলাপাড়া ইউএনও কাউছার হামিদ।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কলাপাড়া ইউএনও কাউছার হামিদ জানান, বেলা দুইটা পর্যন্ত ৫৫% ভোট কাস্ট হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) নির্বাচনী এলাকায় ১১১টি কেন্দ্রে তিন লাখ ৭৮ হাজার ৭৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি’র ধানের শেষ প্রতীকের এবিএম মোশাররফ হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও জামায়াত সমর্থিত খেলাফত মজলিসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ।