
মেজবাহউদ্দিন মাননু
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রভাবশালী একটি দালাল চক্র ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে হাজারো ভূমির মালিক ক্ষতিপূরণ পেতে হয়রানির মুখে পড়েন। ২০১৭ সাল থেকে এ অনিয়মের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা একাধিকবার মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করলেও কার্যকর সেবা পাননি।
সম্প্রতি পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর উদ্যোগে গত চার মাসে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৫ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। হয়রানি রোধে অধিগ্রহণ শাখার সামনে সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙানো, অভিযোগ বক্স স্থাপন এবং দালাল চক্র প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আলাদা ডেক্স এবং চেকলিস্টভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল অধ্যাদেশ অনুযায়ী সৃজিত ৭৩২টি এলএ গেজেট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনে ৮৫টি সংস্থার ই-নামজারি সম্পন্নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ প্রদানে সহজ পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে গত চার মাসে ১৩৫টি চেকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক নিজে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে মোট ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৮ টাকা বিতরণ করেন।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লিজ দেওয়া চান্দিনা ভিটি নবায়নে সরেজমিনে লিজমানি আদায় কার্যক্রম চালিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭২০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেদখল হওয়া সরকারের ১৫ একর ৭৫ শতক খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭৯ কোটি টাকা।
কুয়াকাটা, লতাচাপলী, গঙ্গামতি, ধুলাসার ও কাউয়ারচরসহ আটটি মৌজার জমি কেনাবেচার অনুমতিতে দীর্ঘদিনের জট নিরসনে পেন্ডিং থাকা ৯৫টি তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ায় বর্তমানে কোনো আবেদন ঝুলে নেই।
লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ভোগান্তি নিরসনে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষ স্বস্তি পেয়েছে।
জমি অধিগ্রহণ খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধে জেলা প্রশাসনের এসব পদক্ষেপকে ভুক্তভোগীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।