
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার তালতলী উপজেলায় সরকারি দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতা ও অবস্থানগত বিরোধের জেরে নিদ্রারচর পর্যটন কেন্দ্রে নির্মাণাধীন পাঁচটি কংক্রিটের বেঞ্চ ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকার প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের আওতায় পর্যটকদের বসার সুবিধার জন্য নিদ্রারচর পর্যটন কেন্দ্রে পাঁচটি কংক্রিটের বেঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তালতলী উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন একই উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. ইউনুস ফরাজী। বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
গত ২৮ এপ্রিল ওই পর্যটন এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বেঞ্চগুলো বন বিভাগের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন এবং তা অপসারণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বন বিভাগের কর্মকর্তারা নির্মাণাধীন বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলেন।
উপজেলা প্রশাসনের দাবি, বেঞ্চগুলো সরকারি এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাস জমিতে নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে বন বিভাগের কোনো জমি বা গাছের ক্ষতি হয়নি। তাদের মতে, পূর্ব সমন্বয় ছাড়া এভাবে স্থাপনা ভেঙে ফেলা অনুচিত হয়েছে।
অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. ইউনুস ফরাজী অভিযোগ করেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা প্রকল্পের কাজ বন্ধ করতে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বন বিভাগের সকিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুমেল জানান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে বেঞ্চগুলো অপসারণ করা হয়েছে। তবে এটি উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প ছিল- এ তথ্য তখন তাদের জানা ছিল না।
তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম সাগরকন্যাকে বলেন, প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর কোনো ধরনের পূর্ব অবহিতকরণ ছাড়াই বন বিভাগ বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলে। এতে পর্যটকদের জন্য তৈরি হওয়া অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই কেবল নয়, আর্থিকভাবেও ক্ষতি হলো।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সমন্বয়ের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যে জমিতে বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে তা খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন ছিল। তবে এখন দুই দপ্তরের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাচান ঝন্টু বলেন, নিদ্রারচর পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই। এমন উদ্যোগ পর্যটন বিকাশে সহায়ক ছিল। সমন্বয়ের অভাবে প্রকল্প নষ্ট হওয়া দুঃখজনক।