সাগরকন্যা প্রতিবেদক, তালতলী (বরগুনা)
মাদকের বিস্তার, অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বরগুনার তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক আলোচনা, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায় যুবকদের নিয়ে সভা করে তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ইউএনও। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করছেন। নিয়মিত খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিতরণ করছেন ক্রীড়া সামগ্রী। একই সঙ্গে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যুবক ও তরুণদের নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা করছেন।
তাঁর এ উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রশাসনের ধারাবাহিক তৎপরতা জরুরি।
তালতলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সমাজে কোনো ধরনের মাদকের বিস্তার ঘটতে দেওয়া হবে না। দলীয় নির্দেশনার পাশাপাশি সব স্তরের মানুষকে সচেতন করতে আমরা কাজ করছি। সভা-সেমিনার, লিফলেট বিতরণ ও তরুণদের খেলাধুলায় আকৃষ্ট করতে প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে অপরাধী যে-ই হোক, উপজেলা ছাত্রদল পুলিশ ও প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’
তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, ‘ইউএনও অতীশ সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি ও মাদকের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগ কমছে এবং স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি নিজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করছেন এবং খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক সামাজিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে। প্রশাসন ও সমাজের সবাই এগিয়ে এলে মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।’
ইউএনও অতীশ সরকার বলেন, ‘তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করে সুস্থ ও সুন্দর জীবনধারায় ধরে রাখতেই এ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের ধারাবাহিক কার্যক্রম ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’