ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে খুলনার প্রথম বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট, মিলবে সার-তেল-বিদ্যুৎ

হোম » খুলনা » ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে খুলনার প্রথম বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট, মিলবে সার-তেল-বিদ্যুৎ
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬


 

ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে খুলনার প্রথম বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট, মিলবে সার-তেল-বিদ্যুৎ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, খুলনা

 

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টের পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ অক্টোবরের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্ল্যান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। এটি চালু হলে বর্জ্য থেকে জৈব সার, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

 

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্ল্যান্টটি পরিচালনার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

 

তিনি বলেন, প্ল্যান্টের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি পরিচালনা করবে পেশাদার বেসরকারি অপারেটর। এখান থেকে উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও বায়োগ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। আগামী ডিসেম্বরে এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

 

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর পাঁচ প্রকৌশলীর একটি প্রতিনিধি দল প্ল্যান্টের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে খুলনায় আসে। যন্ত্রকৌশল, উপকরণ ও ধাতুবিদ্যা এবং বৈদ্যুতিক বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিতে দলটি গঠন করা হয়। ৩ অক্টোবর পরীক্ষা শেষে তাঁরা ঢাকায় ফিরে যান।

 

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) সাবেক মহাপরিচালক ড. ইনসানুল করিম, সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী একেএম শামসুল হুদা, সানইয়ার্ড গ্রুপের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জব্বার, সাবেক জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল গফুর। তাঁদের চারজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এবং একজন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁরা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির নকশা প্রণয়নে অভিজ্ঞ।

 

প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী পিন্টু মণ্ডল বলেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাঁদের মতামত প্রকল্প পরিচালকের কাছে তুলে ধরবেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক দিন সময় দেওয়া হয়। এ কারণে ৩৬ ঘণ্টা ধরে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়া চালানো হয়নি। প্রক্রিয়াটি শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তেল উৎপাদন শুরু হয়। এরপর আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা যন্ত্র চালিয়ে বন্ধ করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের ১০ লিটার নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা ও বৈঠক করে প্রকল্প পরিচালককে ফলাফল জানাবেন। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

 

এর আগে ১ অক্টোবর কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পর ৩ অক্টোবর সকালে কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ধ্যায় পরীক্ষা শেষ করা হয়।

 

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়া বাজার-সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। কেসিসি ও এলজিইডি যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে অর্থায়ন করছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড এটি বাস্তবায়ন করছে।

 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য থেকে তিন ধরনের পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল। আর কাঁচাবাজারের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস ব্যবহার করে তৈরি হবে বিদ্যুৎ।

 

সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, প্ল্যান্টটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং বায়োগ্যাস থেকে ৪৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত তেল ও বিদ্যুৎ অন্যত্র সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ব্যাচের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বায়ুদূষণের আশঙ্কা থাকবে না।

 

কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডুমুরিয়ার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্টটি আগামী ডিসেম্বরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় আরেকটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। রাজবাঁধ ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগারও শিগগির চালু করা হবে। এসব স্থাপনা চালু হলে খুলনা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৭:৪৪ ● ১৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ