
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
সম্পর্কেরও কি মেয়াদ থাকে? কবির একটি চরণ মনে করিয়ে দেয়, ‘প্রতিটি সম্পর্কের গায়ে সাঁটানো থাকে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ।’ তবে সম্পর্কের ভাঙন সব সময় অনিবার্য নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া, আন্তরিকতা ও সচেতন আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে অজান্তে করা কিছু ভুলই ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিতে পারে প্রিয় সম্পর্কের ভিত্তি।
জেনে নেওয়া যাক, সম্পর্কের দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে এমন চারটি অভ্যাস সম্পর্কে।
১. ‘আমি ঠিক আছি’ বলে মনের কথা লুকানো
ক্ষোভ, অভিমান কিংবা সঙ্গীর মনোযোগ পাওয়ার আশায় অনেকেই বারবার বলেন, ‘আমি ঠিক আছি।’ অথচ মনের ভেতরে জমে থাকে কষ্ট বা অসন্তোষ। এভাবে নিজের অনুভূতি সরাসরি প্রকাশ না করলে সঙ্গীর পক্ষে প্রকৃত সমস্যা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক দূরত্ব।
তাই অভিমান জমিয়ে না রেখে কী কারণে খারাপ লাগছে, তা শান্তভাবে সঙ্গীকে জানানো জরুরি।
২. শান্তি বজায় রাখতে সমস্যা এড়িয়ে চলা
সম্পর্কে ঝগড়া বা তর্ক এড়াতে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে চান না। সাময়িকভাবে এতে অশান্তি কমলেও অমীমাংসিত সমস্যাগুলো একসময় বড় হয়ে উঠতে পারে।
মতবিরোধ মানেই সম্পর্কের অবনতি নয়। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে খোলামেলা আলোচনা করলে ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারে। তাই সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে উপযুক্ত সময়ে তা নিয়ে কথা বলা ভালো।
৩. সঙ্গীর কথা মন দিয়ে না শোনা
কথোপকথনের সময় শুধু নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করা কিংবা নিজেকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে পারে। সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে না শুনলে তাঁর অনুভূতি ও প্রত্যাশা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্পর্কে জয়-পরাজয়ের হিসাব না করে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা এবং মতপার্থক্যকে সম্মান করা জরুরি। মন দিয়ে শোনা ও সঙ্গীর অনুভূতির প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।
৪. একসঙ্গে থেকেও ফোনে ব্যস্ত থাকা
সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার সময় বারবার ফোনের পর্দায় চোখ রাখা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকা ছোট অভ্যাস মনে হতে পারে। কিন্তু এর ফলে সঙ্গীর মনে অবহেলিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোনের ব্যবহার কমিয়ে পরস্পরের প্রতি মনোযোগী হওয়া জরুরি। কারণ সম্পর্কের গভীরতা শুধু পাশাপাশি থাকার মধ্যে নয়, বরং একে অপরকে সময় দেওয়া ও গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যেও নিহিত।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দৈনন্দিন আচরণের ছোট ছোট পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, মন দিয়ে সঙ্গীর কথা শোনা এবং একে অপরকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে সম্পর্কের বিশ্বাস ও আন্তরিকতা ধরে রাখা সম্ভব।