
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, তজুমদ্দিন (ভোলা)
ভোলার তজুমদ্দিনে চার ব্যক্তিকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মারধর, জোরপূর্বক অপরাধ স্বীকার করানো এবং রাতভর আটকে রেখে ৮০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট )রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের গোলকপুর ও মাহারকান্দি গ্রামের মিজান, শিমুলসহ চারজনকে বাড়ির পাশের একটি জমি থেকে জিম্মি করা হয়। পরে তাদের শরীফ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে রাতভর আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেখানে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক অপরাধ স্বীকার করানো হয়। প্রথমে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে দেনদরবারের মাধ্যমে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে পুলিশের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিমুলের চাচা অভিযোগ করেন, আবু জাফর, রিপন, মিজান, আবু কালাম, বাবুল ও শরীফসহ কয়েকজন মিলে তাদের ওপর টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিরা এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতদের সহযোগিতা করে আসছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, একটি চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দাঙ্গা সৃষ্টি এবং জোরপূর্বক দোকানঘর দখলের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী মিজান বলেন, ‘আমাদেরকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে রাতের আঁধারে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য আমাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে লিখিতও নেওয়া হয়েছে।’ তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আরেক ভুক্তভোগীর চাচা মো. নূরনবী বলেন, খবর পেয়ে আমি রিপন, মিজান ও বাবুলের কাছে ছুটে যাই। তারা প্রথমে একজনের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে দুইজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবু জাফর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, চারজনকে আটক করা হয়েছিল বলে শুনেছেন। তবে তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানার পর একজন উপপরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।