কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল টাইটান ট্রিগারফিশ

হোম » কুয়াকাটা » কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল টাইটান ট্রিগারফিশ
শনিবার ● ২৯ আগস্ট ২০২৬


 

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল টাইটান ট্রিগারফিশ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)

 

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির টাইটান ট্রিগারফিশ। স্থানীয়ভাবে ‘চামড়া মাছ’ নামে পরিচিত প্রায় ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিয়ে আসার পর তা দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বঙ্গোপসাগর থেকে অন্যান্য মাছের সঙ্গে মাছটি ধরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মুন ফিসে নিয়ে আসেন জেলেরা। অদ্ভুত আকৃতির মাছটি দেখে স্থানীয় মানুষ ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ মাছটি কিনতেও আগ্রহ দেখাননি।

 

জেলে খবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরছি। বিভিন্ন ধরনের মাছ জালে ধরা পড়লেও এমন মাছ আগে কখনো দেখিনি। দেখতে এটি অন্য মাছের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

 

আরেক জেলে মাহাতাব বলেন, অন্যান্য মাছের সঙ্গে জালে মাছটি ধরা পড়ে। বন্দরে আনার পর অনেক মানুষ এটি দেখতে ভিড় করেন। তবে বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কিনতে চায়নি।

 

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটি টাইটান ট্রিগারফিশ, যার বৈজ্ঞানিক নাম ব্যালিস্টয়েডস ভিরিডেসেন্স। স্থানীয়ভাবে এটি ট্রিগারফিশ বা চামড়া মাছ নামে পরিচিত।

 

তিনি জানান, পিঠের শক্তিশালী কাঁটা, বড় দাঁত ও শক্ত চোয়াল এ মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত এটি মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়। তবে প্রজনন মৌসুমে ডিম ও নিজের এলাকা রক্ষায় মাছটি আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।

 

প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্রে তলদেশীয় প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় টাইটান ট্রিগারফিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও জানান তিনি। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে মাছটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এতে সিগুয়াটেরা নামের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

 

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় বঙ্গোপসাগর জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সময় জেলেদের জালে নানা ধরনের বিরল ও অল্প পরিচিত সামুদ্রিক প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। টাইটান ট্রিগারফিশ ধরা পড়ার ঘটনাটিও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।

 

তিনি বলেন, এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত। এতে মাছটির পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

 

স্থানীয়দের মতে, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময় বিরল সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও টাইটান ট্রিগারফিশ খুব কমই দেখা যায়। মাছটি ধরা পড়ার ঘটনায় মহিপুর মৎস্য বন্দর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১০:৫৭ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ