বরগুনায় মৃত শিক্ষিকার নামে ১৩ মাসের বেতন-ভাতা

হোম » বরগুনা » বরগুনায় মৃত শিক্ষিকার নামে ১৩ মাসের বেতন-ভাতা
রবিবার ● ৩০ আগস্ট ২০২৬


 

বরগুনায় মৃত শিক্ষিকার নামে ১৩ মাসের বেতন-ভাতা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

মৃত্যুর এক বছর তিন মাস পরও সরকারি নথিতে কর্মরত দেখিয়ে বরগুনার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মৃত সহকারী শিক্ষকের নামে প্রায় ১৩ মাসের বেতন-ভাতা অনুমোদন ও ব্যাংক হিসাবে সরকারি অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিকে ‘তথ্যগত ভুল’ বলে দাবি করলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, ঘটনাটি কোনো স্বাভাবিক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার পশ্চিম গোলবুনিয়া শিশু কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাজবিন পিয়া ২০২৫ সালের ২৯ মে সন্তান জন্মদানের সময় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়। বিদ্যালয় থেকে তাঁর ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়। পরিবারের দাবি, যথাসময়ে তাঁর মৃত্যুসনদ উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল।

 

কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় সরকারি বিধি অনুযায়ী তাজবিন পিয়ার পরিবারের প্রাপ্য এককালীন আর্থিক সুবিধাও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। কিন্তু এরপরও তাঁর নামে টানা ১৩ মাস বেতন-ভাতা চলতে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।

 

তাজবিন পিয়ার স্বামী সজীব জানান, স্ত্রীর মৃত্যুর পরও তাঁর ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত বেতন-ভাতার টাকা জমা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।

 

সজীব বলেন, ‘আমার স্ত্রী ২০২৫ সালের ২৯ মে সন্তান জন্মদানের সময় মারা যায়। তাঁর মৃত্যুসনদ উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছি। এরপরও তাঁর ব্যাংক হিসাবে ১৩ মাসের বেতন-ভাতার টাকা জমা হয়েছে।’

 

তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করার পর গত ১৮ আগস্ট তাঁকে শিক্ষা অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে ভুলবশত সরকারি অর্থ জমা হয়েছে বলে জানানো হয়। ওই হিসাবে প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জমা হয়েছে উল্লেখ করে তা ফেরত নেওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে একটি চেক রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সজীব আরও জানান, তিনিও বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা লেমুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সম্প্রতি একটি ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, গত ১৮ আগস্ট ঋণের টাকা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পরপরই উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে ওই হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়।

 

তাঁর অভিযোগ, কোনো লিখিত নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে না জানিয়েই ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা জেরিনা আক্তার বলেন, তাজবিন পিয়ার মৃত্যুসনদ উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হলেও সেটি তাঁর টেবিলে আসেনি। অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়তো ভুলবশত কাগজটি তাঁর কাছে উপস্থাপন করেননি।

 

তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পারলে মৃত শিক্ষকের বিল কেন পাস করব? এতে তো আমার কোনো সুবিধা নেই। অফিসে স্টাফ কম থাকায় কাজের চাপে এমনটি হতে পারে।’

 

তবে বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ বলেন, উপজেলার সব শিক্ষকের বেতন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরেই অনুমোদন হয়। মৃত শিক্ষকের নামে বেতন দেওয়ার ঘটনায় শুধু অফিসের স্টাফদের দায়ী করার সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ এটি কোনো স্বাভাবিক ভুল নয়।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৩:৫২ ● ৪১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ