
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের কৈগরদাশকাঠি এলাকার লিটুর চরে বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। জরাজীর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার এবং স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে লিটুর চরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সময়মতো সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। এলাকায় খাবার ও সুপেয় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
তারা বলেন, তীব্র জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের চারা তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার করা না হলে প্রায় ২০০ একর জমির আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, জোয়ারের পানিতে স্থানীয় বিভিন্ন মৎস্যঘেরও তলিয়ে গেছে। এতে ঘের মালিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, মৎস্যঘেরগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, লিটুর চরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের মধ্যে বসবাস করছেন। প্রতিবার বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
গৌরম্ভা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবর রহমান জোয়ার্দার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মানববন্ধনে কৈগরদাশকাঠি চরের শওকাত হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির হোসেন, লাইলী বেগম, মনিরা বেগমসহ কয়েকশ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি ত্রাণ সহায়তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এমই/এমআর