মির্জাগঞ্জে হাসপাতাল সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে রোগীরা

হোম » পটুয়াখালী » মির্জাগঞ্জে হাসপাতাল সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে রোগীরা
বৃহস্পতিবার ● ২০ আগস্ট ২০২৬


 

মির্জাগঞ্জে হাসপাতাল সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে রোগীরা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

 

কোথাও বড় গর্ত, কোথাও ইটের জোড়াতালি। কিছু অংশে আরসিসি ঢালাই উঠে বেরিয়ে এসেছে রড। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেক স্থানে সড়কের অবস্থাও বোঝার উপায় নেই। এমন বেহাল অবস্থায় মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

উপজেলা পরিষদের গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত সড়কটি মির্জাগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া হাসপাতালের আশপাশে রয়েছে একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় এর বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত, কোথায় উঁচু-নিচু অংশ- তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। যানবাহন চলাচলের সময় রোগীদের বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রসূতিদের বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়।

 

হাসপাতালের প্রবেশপথেও রয়েছে ঝুঁকি। সড়কের ঢালাই উঠে রড বের হয়ে থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হাসপাতালের সামনে একটি সেফটি ট্যাংক থেকে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হয়ে সড়কে জমছে। এতে রোগী ও পথচারীদের ওই নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধ কমাতে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে পুকুরে পড়ে আছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল নয়, এই এলাকায় একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীসহ সাধারণ মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। সড়কটির এমন অবস্থা যে, চলাচল করতে গিয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

 

বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের সড়কের ঢালাই উঠে কয়েক জায়গায় রড বের হয়ে আছে। এতে পথচারীদের পায়ে আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তও তৈরি হয়েছে।

 

একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা উত্তম কুমার বলেন, ‘আমার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। কিন্তু সড়কের এমন অবস্থার কারণে তাকে আনা-নেওয়ার সময় ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধের জন্য কয়েকবার বাইরে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হেঁটে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের প্রবেশপথের ট্যাংক থেকে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হয়ে আসায় রোগী ও স্বজনদের আরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, হাসপাতালের প্রবেশসড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও স্বজনসহ সবাইকে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে।

 

ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা আরও জানান, হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় উপজেলার মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের কারণে সড়কটির আরও ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানোর পর কিছু অংশে ইটের খোয়া ও সুরকি দেওয়া হয়েছিল। তবে বৃষ্টিতে সেগুলোও ধুয়ে গেছে।

 

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার সড়কটির অবস্থা বেহাল। মেইনটেন্যান্সের মাধ্যমে শিগগিরই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, মির্জাগঞ্জের হাসপাতাল সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই সড়কটির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৩:৩১ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ