পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ সরকারি অ্যাম্বুলেন্সই অচল

হোম » লিড নিউজ » পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ সরকারি অ্যাম্বুলেন্সই অচল
সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬


 

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অচল, পাঁচটির একটিও চলছে না, বাড়ছে রোগী পরিবহনের খরচ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের বরাদ্দ থাকা পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের একটিও বর্তমানে সচল নেই। এতে রোগী পরিবহনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্বজনদের। ফলে বেড়েছে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী পরিবহনের খরচও।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে তিনটি প্রায় তিন বছর ধরে বিকল। অপর দুটি সচল থাকলেও চালক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে আছে। সর্বশেষ একজন চালক গত ৩০ জুন অবসরে যাওয়ার পর সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

 

সরকারি সেবা বন্ধ থাকায় পটুয়াখালী থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অথচ সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে একই পথে ভাড়া ছিল প্রায় ২ হাজার টাকা।

 

রোগীর স্বজন আব্দুল জব্বার বলেন, ‘জানুয়ারিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিতে ২ হাজার টাকা লেগেছিল। কিন্তু ৩১ জুলাই একই পথে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সরকারি গাড়ি না থাকায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’

 

শুধু বরিশাল নয়, ঢাকাগামী রোগীদের ক্ষেত্রেও বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। আগে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে প্রায় ১০ হাজার টাকায় ঢাকায় নেওয়া গেলেও বর্তমানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি এক রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাদের দাবি, চালকদের মধ্যে সিন্ডিকেট থাকায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।

 

অবসরপ্রাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘সরকারি ব্যবস্থায় নির্ধারিত ভাড়ায় রোগী পরিবহন করা হতো। এখন সেই সুযোগ না থাকায় রোগীর পরিবারকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।’

 

তবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দাবি, জ্বালানি, চালকের মজুরি ও গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিজেদের বহন করতে হয়। এ কারণে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় তাদের ভাড়া বেশি।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চালক সংকট দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি একজন চালক অবসরে যান। অপর চালক গত ৩০ জুন অবসরে যাওয়ার পর সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত চালক নিয়োগ এবং বিকল অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামতের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

 

জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি এ সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা। এখন তাদের প্রশ্ন, কবে সচল হবে বিকল অ্যাম্বুলেন্স, আর কবে কাটবে চালক সংকট?

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৭:৫৬ ● ২৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ