বেনাপোল বন্দরের ট্রাফিক পরিচালক শামীম হোসেনের নাটোরে বদলি

হোম » খুলনা » বেনাপোল বন্দরের ট্রাফিক পরিচালক শামীম হোসেনের নাটোরে বদলি
সোমবার ● ৩ আগস্ট ২০২৬


 

বেনাপোল বন্দরের ট্রাফিক পরিচালক শামীম হোসেনের নাটোরে বদলি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)

 

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের ট্রাফিক পরিচালক মোঃ শামীম হোসেনকে নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) পদে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের কথা জানানো হয়।

 

রবিবার জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর বন্দর সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি, ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য খালাস, ওজন স্কেলে কারসাজি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল, তার প্রেক্ষাপটে এ বদলিকে অনেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখার প্রজ্ঞাপন (স্মারক নং-০৫.০০.০০০০.১৪০.১৯.০০০৩.২২.৪১৬, তারিখ ২ আগস্ট ২০২৬) অনুযায়ী, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেনকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) পদে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে তাকে ফরিদপুরে একই পদে পদায়নের আদেশ দেওয়া হলেও সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে তা সংশোধন করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

 

বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন্দরের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, গত এক বছরে বেনাপোল বন্দরে আটক হওয়া ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য ও শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের তৎপরতা ছিল। তাদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে ট্রাফিক পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রেখে ওজন স্কেলে অনিয়ম, ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে পণ্য খালাসের সুযোগ তৈরি করা হতো। এসব অভিযোগের কারণে রাজস্ব আহরণেও প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেন তারা। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনায় অনেক সময় নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মূল হোতারা আড়ালে থেকে যেতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

বন্দর ব্যবহারকারী ও সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও বেনাপোল বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা শুল্ক ফাঁকি, ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য খালাস, রাজস্ব ক্ষতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

 

এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া ট্রাফিক পরিচালক মোঃ শামীম হোসেন বলেন, ‘আমি ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল স্থলবন্দরে যোগদান করি। দীর্ঘ দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। যাদের অবৈধ সুবিধা দিতে পারিনি, তারাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলবেন, এটাই স্বাভাবিক। সরকারি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘নাটোরে উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) হিসেবে আমার বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এতে আমি সন্তুষ্ট। আদেশ পেলে দ্রুত সেখানে যোগদান করব।’

 

বাংলাদেশ সময়: ২১:২৮:০৯ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ