দশমিনায় এইচএসসি কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে এমসিকিউ পূরণের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » দশমিনায় এইচএসসি কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে এমসিকিউ পূরণের অভিযোগ
শনিবার ● ১ আগস্ট ২০২৬


দশমিনায় এইচএসসি কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে এমসিকিউ পূরণের অভিযোগসাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর এমসিকিউ উত্তরপত্র পূরণের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কেন্দ্র সুপার। অভিযোগের সত্যতা মিললে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজ মূল কেন্দ্র এবং দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপকেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। শনিবার (০১ আগস্ট) কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার এমসিকিউ অংশ শেষে উত্তরপত্র প্যাকিংয়ের জন্য উপকেন্দ্রে নেওয়া হলে কেন্দ্র সুপার ও ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মো. মহিউদ্দিন তার এক স্বজনের এমসিকিউ উত্তরপত্র বের করে মোবাইল ফোন দেখে উত্তর পূরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে কেন্দ্র সচিবকে অবহিত করেন। কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময়ের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে এক ব্যক্তিকে টেবিলে বসে মোবাইল ফোন দেখে একটি উত্তরপত্রে দাগ দিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হলেও সাগরকন্যার পক্ষে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্র সুপার মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরীক্ষা শেষে নিয়ম অনুযায়ী উত্তরপত্র উপকেন্দ্রে এনে প্যাকেট করা হয়। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।  তিনি স্বীকার করেন, অভিযোগে উল্লেখিত পরীক্ষার্থী তার মামাতো ভাই।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভাষক দাবি করেন, ঘটনার সময় কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। পরে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক বেলাল হোসেন মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র নিয়ে কেন্দ্র সচিবকে বিষয়টি জানান। তবে এ দাবিরও স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. সোহরব হোসেন বলেন, পরীক্ষার সময় আমার কক্ষ আলাদা ছিল, তাই ঘটনাটি সরাসরি দেখিনি। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্র সুপারের দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

 

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান (প্রেষণে) অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এই প্রথম জানলাম। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না।

 

এ ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৪:৪১ ● ৩০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ