মামলায় ৪ মৃত আ’লীগ নেতাকে আসামি, ‘মামলা বাণিজ্যের’ অভিযোগ

হোম » রাজনীতি » মামলায় ৪ মৃত আ’লীগ নেতাকে আসামি, ‘মামলা বাণিজ্যের’ অভিযোগ
শুক্রবার ● ৩ জুলাই ২০২৬


 

আসামী মৃত আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা, আবুল ফারুক হুমায়ুন, এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলী ও মোহাম্মদ আলী হাওলাদার।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল

 

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় চারজন মৃত নেতাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার অভিযোগের সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন মারজুক আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক সমন্বয়ক এবং বর্তমানে জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছেন। তাদের বাধা দিতে গেলে ককটেল ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানান, নালিশী মামলায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব ও রফিকুল ইসলাম খোকন।

 

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি, ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক হুমায়ুন ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ, ২২৫ নম্বর আসামি এইচএম হাফিজুর রশিদ শিবলী ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ১৯৫ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী হাওলাদার একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই চারজন ১০ জুন নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলে অংশ নেন এবং ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপ করেন।

 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেন খান বলেন, ‘মারজুককে বরিশালের অনেকেই মামলা ব্যবসায়ী হিসেবে চেনেন। এই মামলার সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি হলো মৃত ব্যক্তিদের আসামি করা। যারা বহু আগে মারা গেছেন, তারা কীভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন?’

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘মামলায় যাদের নাম এসেছে, তারা দীর্ঘদিন আগে মারা গেছেন। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে জানতে মারজুক আব্দুল্লাহর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরে কলব্যাক করে বলেন, ‘রেজা নামে যে ব্যক্তির নাম এসেছে, সেটা সাক্ষীদের ভুল তথ্যের কারণে হয়েছে। বাকি তিনজনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সাক্ষীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়েছে।’

 

বরিশালের গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়ে থাকলে তা আদালতকে বিভ্রান্ত করার শামিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

 

সিনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

 

এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ মে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুসহ ২৪৭ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছিলেন মারজুক আব্দুল্লাহ। সে সময়ও আসামির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত ও বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এবং সংগঠনটির জেলা কমিটি তার পদ স্থগিত করে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৭:০৭ ● ৬৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ