৩৬ বছর পর আমতলীতে ফিরছে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, স্বস্তি বিচারপ্রার্থীদের

হোম » আইন-আদালত » ৩৬ বছর পর আমতলীতে ফিরছে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, স্বস্তি বিচারপ্রার্থীদের
মঙ্গলবার ● ২৫ আগস্ট ২০২৬


 

৩৬ বছর পর আমতলীতে ফিরছে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত। ছবিটি সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

 

৩৬ বছর পর আমতলী-তালতলী উপজেলার মানুষের জন্য সিনিয়র সিভিল জজ আদালত আমতলীতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বরগুনা জেলা সদর থেকে আমতলী উপজেলায় সিনিয়র সিভিল জজ আদালত স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশ রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

 

স্থানীয়রা জানান, আদালতটি আমতলীতে স্থানান্তর হলে গত ৩৬ বছর ধরে দুই উপজেলার মানুষের চলমান দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। বর্তমানে দেওয়ানি মামলার কাজে তাঁদের সাড়ে চার কিলোমিটার প্রশস্ত পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে বরগুনা জেলা সদরে যেতে হয়। এতে ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আমতলী-তালতলী নিয়ে আমতলী উপজেলা গঠনের পর সেখানে মুনসেফ (দেওয়ানি) আদালত স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন আদালতটির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমতলীর মুনসেফ আদালত বরগুনা জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এতে দুই উপজেলার বিপুলসংখ্যক বিচারপ্রার্থী স্থানীয়ভাবে দেওয়ানি আদালতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

 

পরের বছর ১৯৯২ সালে পায়রা নদী ও রাখাইন-অধ্যুষিত এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম পুনরায় আমতলীতে শুরু হয়। তবে দেওয়ানি আদালতের কার্যক্রম আর আমতলীতে ফিরেনি। ফলে গত ৩৬ বছর ধরে দুই উপজেলার মানুষ দেওয়ানি মামলার কাজে বরগুনা জেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

তালতলী মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘বরগুনা জেলা সদরে দেওয়ানি আদালত থাকায় আমতলী ও তালতলীর মানুষের জনস্বার্থ দীর্ঘদিন উপেক্ষিত হয়েছে। সিনিয়র সিভিল জজ আদালত আমতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে দুই উপজেলার লক্ষাধিক বিচারপ্রার্থীর দুর্ভোগ কমবে।’

 

তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের মো. ইসহাক হাওলাদার বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে বরগুনা সহকারী জজ দেওয়ানি আদালতে একটি মামলা চলছে। ঝড়-বন্যা উপেক্ষা করে পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বরগুনা আদালতে যেতে হয়। এই কষ্ট ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়। দেওয়ানি আদালত পুনরায় আমতলীতে চালু হচ্ছে, এটি আমতলী-তালতলীর মানুষের জন্য আশীর্বাদ।’

 

ঢাকা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমতলী-তালতলীবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের আর পায়রা নদী পাড়ি দিয়ে বরগুনায় যেতে হবে না। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২০:০১:০১ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ