সাংবাদিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, বাউফল থানায় জিডি

হোম » গণমাধ্যম » সাংবাদিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, বাউফল থানায় জিডি
শুক্রবার ● ২৬ জুন ২০২৬


 

অভিযুক্ত মো. রিয়াজ ও এনামূল হক এনা। ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সংবাদকর্মীকে গালাগাল, মারধরের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় অপর দুই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ‘ঢাকা নিউজ’র সাংবাদিক এএইচএম আবুবকর সিদ্দিক (৫৩) বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর- ১৬৮৩।

 

জিডি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাংবাদিক এএইচএম আবুবকর সিদ্দিক বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মো. রিয়াজ (৩০), যিনি ‘জাগো জনতা’ পত্রিকার বাউফল প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এবং মো. এনামুল হক এনা (৩০), যিনি ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’ ও ‘এ দিন’ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত, সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, আবুবকর সিদ্দিক গালাগাল করতে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা আরও উত্তেজিত হয়ে তাকে টানাহেঁচড়া করে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ, মো. জসিম ও মো. বশারসহ কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনেই অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি এবং তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও দুই সহযোগী ভবিষ্যতে তাকে খুন-জখম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা সংবাদকর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছেন। ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. রিয়াজ ও মো. এনামুল হক এনার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

বাউফল থানা পুলিশ জিডি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জিডিটি নথিভুক্ত করে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই (নিরস্ত্র) খোরশেদ আলীকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

 

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৯:৪৬ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ