
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামুল হক এনামের বিরুদ্ধে এসিড মামলার এক নারী বাদীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওসি ও মামলার বাদীর মধ্যকার একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, এসিড-সংক্রান্ত ঘটনায় ফাতিমা জামাদ্দার অর্পা বরগুনার অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বাদশা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গত ২০ মে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুর রহমান মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
বাদী ফাতিমা জামাদ্দার অর্পার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরও মামলা নথিভুক্ত করতে বিলম্ব করা হয়। পরে মামলার প্রধান আসামি বাদশাকে বুধবার রাতে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরদিন বাদশা তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অর্পা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে পাথরঘাটা থানায় আসার পথে বাদশা তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে গত ১৪ জুন ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে ব্যক্তিগত নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলে তাকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও তিনি সাংবাদিকদের দিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ফোনালাপে ওসি বাদীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার।’ এতে তিনি অপমানিত ও বিব্রত বোধ করেছেন বলে দাবি করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু।
মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম মামলার বাদী অর্পাকে উদ্দেশ করে ‘আপনি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য শুনে আমি এবং সেখানে উপস্থিত সবাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক এনামের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাদীর পথরোধ করে হামলার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওসির সরকারি নম্বরে যোগাযোগ না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওসির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও শোনা গেছে।’