তজুমদ্দিনে স্কুলে প্রত্যয়নপত্রকে কেন্দ্র করে দুই দফা সংঘর্ষ, আহত ২

হোম » ভোলা » তজুমদ্দিনে স্কুলে প্রত্যয়নপত্রকে কেন্দ্র করে দুই দফা সংঘর্ষ, আহত ২
বৃহস্পতিবার ● ১৮ জুন ২০২৬


 

তজুমদ্দিনে স্কুলে প্রত্যয়নপত্রকে কেন্দ্র করে দুই দফা সংঘর্ষ, আহত ২

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, তজুমদ্দিন (ভোলা)

 

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমিতে একটি প্রত্যয়নপত্র সংশোধন ও স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষিকা ও এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই তজুমদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

 

ঘটনাটি ঘটে বুধবার শম্ভুপুর খাসের হাট বাজার এলাকায়।

 

জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাভিবের পিতা আহসানুল হক মমিন কয়েকদিন আগে সন্তানের জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন। পরে ওই প্রত্যয়নপত্রে ভুল আছে উল্লেখ করে সংশোধন ও পুনরায় স্বাক্ষরের জন্য তিনি বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।

 

এরপর বিদ্যালয়ের ভেতরে শুরু হওয়া উত্তেজনার জের ধরে শম্ভুপুর খাসের হাট বাজার এলাকার দক্ষিণ অংশে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

অভিভাবক আহসানুল হক মমিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমির প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার পর সেখানে কিছু ভুল দেখতে পাই। বিষয়টি সংশোধনের জন্য প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রফিক মাস্টারকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে খাসের হাট বাজারে সামছুলের চায়ের দোকানে দেখা করতে বলেন। সেখানে গেলে শিক্ষিকার স্বামী ও তার কয়েকজন স্বজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়।

 

অন্যদিকে শম্ভুপুর এম.আর. রেসিডেন্সিয়াল একাডেমির প্রধান শিক্ষিকা বলেন, লাভিবের বাবা আহসানুল হক মমিন তার সন্তানের জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার পর পুনরায় এসে স্বাক্ষরের অনুরোধ করেন। আমি তাকে জানাই, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দেওয়া আছে। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এটা হবে না। আপনাকে চাকরি দিয়েছে কে? আপনার তো চাকরি করার মতো কোনো যোগ্যতাই নেই।’ এসব নিয়ে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি লাইব্রেরিতে থাকা ছাতা ও চেয়ার দিয়ে আমাকে আঘাত করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

 

ঘটনার সময় উপস্থিত এক অভিভাবক সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, মমিন ভাই লাইব্রেরিতে ম্যাডামের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ছাতা ও চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন এবং একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। হৈচৈ শুনে লোকজন জড়ো হলে তিনি চলে যান।

 

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৭:৪২ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ