মাজারের দিঘিতে কুমিরের টানে নিখোঁজ শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার

হোম » লিড নিউজ » মাজারের দিঘিতে কুমিরের টানে নিখোঁজ শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার
মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২৬


 

দিঘীর ঘাটে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের টানে নিখোঁজ হওয়া শিশু ফাতেমা (৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৫টার দিকে দিঘির পূর্ব পাশ থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

এর আগে সোমবার রাত ৯টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে একটি কুমির শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং মাজারের প্রধান খাদেম শেখ তরিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ফাতেমা মাজার এলাকায় বসবাসকারী এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে অবস্থিত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে সোমবার রাতে ফাতেমাকে গোসল করাতে নামেন তার মা। এ সময় পানিতে থাকা কুমিরটি শিশুটিকে কামড়ে ধরে টেনে নিয়ে যায়।

শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় রাতভর অভিযান চালান। একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোরে দিঘির পূর্ব পাশে ফাতেমার মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

মাজারসংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তার বলেন, মেয়েটি প্রায় প্রতিদিনই ওই ঘাটে গোসল করত। সোমবারও গোসল করতে নেমেছিল। ঘাটে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে কুমিরটি তাকে টেনে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা ইট ছুড়ে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও কুমিরটি শিশুটিকে নিয়ে দিঘির মাঝখানে চলে যায়।

 

এ বিষয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা মাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ঘাট এলাকায় ফেন্সিং নির্মাণ করা হবে।

 

জানা যায়, লোকবিশ্বাস অনুযায়ী হযরত খান জাহান আলী (রহ.) দিঘিটি খনন করে সেখানে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের বংশধরদের মধ্যে পুরুষ কুমিরকে ‘কালাপাহাড়’ এবং স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলাপাহাড়’ নামে ডাকা হতো। সর্বশেষ বংশধর কুমিরটির মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে অবমুক্ত করা হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি মারা যায়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের মধ্যে একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যাওয়ার পর বর্তমানে দিঘিতে একটি কুমির রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২২:২৬ ● ২৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ