
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার বামনা উপজেলার এক নাবালিকা কিশোরীকে আদালতের নির্দেশে মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে বামনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কিশোরীর মা সুলি আক্তার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে সুলি আক্তার বলেন, চলতি বছরের মে মাসে একই এলাকার শাহারিয়ার রাফি তাঁর ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে পটুয়াখালী পিবিআই কিশোরীকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। প্রথমে কিশোরী মায়ের কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বরিশাল নিরাপদ আবাসনে রাখা হয়। পরে মত পরিবর্তন করলে ট্রাইব্যুনাল গত ১২ জুলাই তাকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সুলি আক্তারের অভিযোগ, ১২ জুলাই আদালতের নির্দেশে মেয়েকে নিয়ে বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। পথে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে শাহারিয়ার রাফির নেতৃত্বে আমজেদ আলী খান, শামীম খান, রুমি বেগম, রুহুল আমীনসহ ১২ থেকে ১৩ জনের একটি দল অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারা জোরপূর্বক কিশোরীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দিতে গিয়ে তিনি ও তাঁর স্বামী হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি আহত হন এবং পরে অভিযুক্তরা তাঁর মেয়েকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এ সময় তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে থাকা ৯টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সুলি আক্তার।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহারিয়ার রাফির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এমএইচকে/এমআর