কয়রায় জরাজীর্ণ কলেজ ভবনের ছাদ ধস, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

হোম » খুলনা » কয়রায় জরাজীর্ণ কলেজ ভবনের ছাদ ধস, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা
রবিবার ● ১৯ জুলাই ২০২৬


য়রার গাজী আঃ জব্বার স্কুল এন্ড কলেজের ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে

 

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)

 

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদসংলগ্ন গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজের জরাজীর্ণ মূল ভবনের একটি অংশের ছাদ ধসে পড়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ওই সময় শিক্ষার্থী বা শিক্ষক না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত ভবনটিতেই নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পর ভবনের ছাদ ধসে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অধীনে ১৯৯৫ সালে ভবনের প্রথম তলা এবং ২০০১ সালে দ্বিতীয় তলা নির্মিত হয়। পরে ঘূর্ণিঝড় আইলা, ইয়াস ও রিমালের সময় বারবার বাঁধ ভেঙে নোনা পানিতে দীর্ঘদিন তলিয়ে থাকায় ভবনটির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে পিলার ও ছাদে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, অনেক জায়গায় রড বেরিয়ে এসেছে। দরজা-জানালা ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত। এর আগে ছাদের পলেস্তারা ও চাঙড় খসে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 

ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি ছোট টিনশেড কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে আমাদের বা শিক্ষার্থীদের কারোরই পাঠদানে মন বসে না। টিনশেডের অল্প জায়গায় এত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করানো অত্যন্ত কষ্টকর।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, একসময় বিদ্যালয়টির সুনাম ছিল। কিন্তু ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই সন্তানদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন, ফলে শিক্ষার্থীসংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

 

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ বা জরুরি সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবনের বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত নতুন শিক্ষাভবন ও একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আশ্বাস নয়-প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বার্থে অনতিবিলম্বে একটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৯:৩০ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ