
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ৭১ কিলোমিটার মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের। নিম্নমানের ও দায়সারা কাজের অভিযোগ তুলে সংস্কারকাজের অনিয়ম তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কটি নির্মাণ করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়ম থাকায় কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কটি বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে কিছু অংশে সংস্কার করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের অধিকাংশ অংশই খানাখন্দে ভরা ছিল।
পটুয়াখালী সেতুর টোল আদায় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯১২টি নিবন্ধিত যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া সহস্রাধিক মাহেন্দ্র, ট্রলি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও নিয়মিত চলাচল করে।
চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয় এবং ৩০ জুন কাজ শেষ হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে শত শত খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পুরো ১৯ কিলোমিটার সড়কেই ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
তুহিন পরিবহনের চালক সাদ্দাম মিয়া বলেন, খানাখন্দের কারণে নিরাপদে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নতুন সংস্কার করা সড়কের এমন অবস্থা হওয়া অস্বাভাবিক।
যাত্রী তানজিলা, জিয়া উদ্দিন জুয়েল ও নজরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেই সড়কে সংস্কারকাজ হতে দেখেছি। এখন সেই সড়ক আবারও খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গাড়িচালক মো. নিজাম উদ্দিন, সালাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান, রাসেল ও শাহ আলম দ্রুত সংস্কারকাজের অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সড়কের কিছু অংশে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।