
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
মালয়েশিয়ার কারাগারে টানা ১০ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রতন মৃধা। সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় শনিবার (১৮ জুলাই) তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে নিজ উপজেলা কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী তাকে আবেগঘন পরিবেশে স্বাগত জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২১ বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় রতন মৃধাকে মালয়েশিয়ায় পাঠান তার বাবা নারায়ণ চন্দ্র মৃধা ও বড় ভাই নীলরতন মৃধা। পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটায়। এরই মধ্যে তার বাবা মারা যান।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে তাকে দীর্ঘ ১০ বছর কারাবন্দি থাকতে হয়। সরকারের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অবশেষে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ পান।
স্থানীয় বাসিন্দা জোবায়ের রানা বলেন, রতনের বন্দিত্বের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি সহযোগিতায় শনিবার রাতে তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
রতনের মা পুষ্প মৃধা বলেন, বছরের পর বছর ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থেকেছি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আমাদের ঘরে আর দীর্ঘশ্বাস নেই।
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর রতনের দেশে ফেরায় আন্ধারমানিক গ্রামে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এমই/এমআর