সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

হোম » রাজনীতি » সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
সোমবার ● ১ জুন ২০২৬


 

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। ফাইল ছবি

সাগরকন্যা ডেস্ক

 

হাসপাতালে দীর্ঘ আট মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন।

 

সোমবার (১ জুন) বিকাল ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরহুমের প্রথম জানাজা বাদ মাগরিব ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

 

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও চিকিৎসা

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বছরের অক্টোবর মাসেও তার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

 

তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে অসুস্থতার কারণে শেষ সময়গুলোতে তিনি দীর্ঘদিন জনসম্মুখে অনুপস্থিত ছিলেন।

 

দুর্নীতি মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম

 

চলমান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গত ৭ মে আদালত তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

 

আদালতে তার আইনজীবী তখন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি এবং তিনি কাউকে চিনতে অক্ষম ছিলেন; তার স্মৃতিশক্তিও হ্রাস পেয়েছিল।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।

 

তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলেও সম্প্রতি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

 

রাজনৈতিক জীবন ও পরিচিতি

 

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ।

 

তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৫:০৮ ● ৩০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ