দুমকিতে নির্মাণ কাজ ফেলে রাখায় জনচলাচলে দুর্ভোগ!

প্রথম পাতা » পটুয়াখালী » দুমকিতে নির্মাণ কাজ ফেলে রাখায় জনচলাচলে দুর্ভোগ!
শুক্রবার ● ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩


দুমকিতে নির্মাণ কাজ ফেলে রাখায় জনচলাচলে দুর্ভোগ!

দুমকি (পটুয়াখালী) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

পটুয়াখালীর দুমকিতে এলজিইডির গ্রামীণ সড়কের নির্মাণ কাজ বছরের পর বছর ধরে ফেলে রাখায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। উপজেলা শহর কানেক্টিং সড়কটির অন্ততঃ ১কি.মি. পাকা করণের অজুহাতে এভাবে হেরিং বন্ড তুলে মাঝে মাঝে ইট সুড়কির স্তুপ করে ফেলে রাখা এবং পরবর্তি ১কি.মি. বালু ভরাটের জন্য রাস্তা খুড়ে দু’পাশে মাটির লাইন করায় পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েই চলছে।
উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে থানা ব্রীজের পশ্চিম পাড়ের গোলাম সরোয়ার হাফিজী মাদ্রাসা থেকে পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ২কি.আমি. এইচবিবি’র  রাস্তার প্রথম ধাপে ১কি.মি. পাকাকরণের কার্যাদেশ দেয় এলজিইডি। পটুয়াখালীর পল্লী স্টোর্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে ২০২০সালের মার্চ মাসে এইচবিবি’র ইটগুলো তুলে বালু ভরাট ও মেকাডামের জন্য পুড়ো রাস্তায় মাঝে মাঝে ইটসুড়কির স্তুপ দিয়ে নির্মাণ কাজ প্রায় সাড়ে ৩বছর ফেলে রাখে। এতে সড়কটিতে জনচলাচলে মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অপর দিকে সম্প্রতি দ্বিতীয় ধাপের ১কি.মিটারেরও কাজ শুরু করা হয়। এ অংশের ইট তুলে রাস্তা কেটে বালু ভরাটের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি বর্ষায় কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পুরো দু’কি.মি সড়কই এখন জনচলাচলের অযোগ্য। এঅবস্থায় দীর্ঘ দিন ফেলে রাখায় এলাকাবাসির ভোগান্তি এখন চরম আকারে ধারণ করেছে। ব্যস্ততম সড়কের শুরুতে গোলাম সরোয়ার হাফেজী ও নুরানি মাদ্রাসা এবং শেষ প্রান্তে পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর নিত্য যাতায়তে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ওই সড়কের বাসিন্দা পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মোঃ শামিম খান অভিযোগ করেন, কাদা-বৃষ্টিতে একাকার সড়কে পায়ে হেটে চলাচলের কোন জো-নেই। দীর্ঘদিন যাবৎ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী থাকায় অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে বার বার অবহিত করলেও ইতিবাচক কোন ফল দেখছি না।
উত্তর শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এলাকাবাসি চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সড়কটিতে কোন যানবাহন চলাচলের উপযোগী না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। তাই রাস্তাটি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে পাকাকরনের কাজ সম্পন্ন করার দাবি করেছেন তিনি।
নির্মাণ কাজ ফেলে রাখার বিষয়ে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “পল্লী স্টোর”র সত্ত্বাধিকারী গোলাম সরোয়ার বাদলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লাইসেন্স তার কিন্তু কাজটি নিয়েছেন অন্য দু’জন। তাদেরকে কাজটি করার জন্য বেশ কয়েকবার তাগিদ দিলেও তারা লোকসানের আশংকায় কাজ করতে আগ্রহী নন। এখন লাইসেন্স বাচাঁতে বৃষ্টি কমলেই কাজটি তিনি নিজেই সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগ সম্পর্কে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আজিজুল হক বলেন, ইতিপূর্বে সেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এবং টেন্ডার বাতিল করে রি-টেন্ডার আহবানের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছি।

এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৯:২৯ ● ৭৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ