ধর্ষণের ভিডিও ধারণ বরগুনায় নারী টেইলারকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

হোম পেজ » বরগুনা » ধর্ষণের ভিডিও ধারণ বরগুনায় নারী টেইলারকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
রবিবার ● ১২ এপ্রিল ২০২৬


 

প্রতীকী চিত্র

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

তালাকপ্রাপ্ত নারী টেইলারকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী ওই নারী। বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ ওসমান গনি রবিবার মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় আসামি হচ্ছে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সোনাউঠা গ্রামের মোঃ শামসু চৌকিদারের ছেলে মোঃ মামুন চৌকিদার (৩৫)।

 

বাদীর অভিযোগে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ভুক্তভোগী তালাকপ্রাপ্ত হয়ে আমতলীর সোনাউঠা গ্রামে রাস্তার পাশে দোকান দিয়ে টেইলারিংয়ের কাজ করে। বাদীর দোকানের পাশেই আসামি মামুন ফার্মেসি দেয়। মামুনের বাবা ইউনিয়নের চৌকিদার। ভুক্তভোগী নারীকে রিলিফের চাল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মামুন নারীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। মামুন প্রায়ই ওই নারীর দোকানে যেত।

 

প্রথম ঘটনার দিন গত বছরের ২৭ আগস্ট বেলা অনুমান ২টার সময় ওই নারী তার দোকানের পেছনের বারান্দায় বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এই ফাঁকে মামুন নারীর দোকানে ঢুকে নারীর বিছানায় বসে নারীর শরীরে হাত দেয়। এমন সময় নারীর ঘুম ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে সে চিৎকার দেয়। মামুন নারীর মুখ চেপে ধরে বিছানায় চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে মামুন নারীকে গলা টিপে খুনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে। নারীকে মামুন বলে যায়, ধর্ষণের কথা কারো কাছে বললে ভিডিও ভাইরাল করে দেবে।

 

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখায় ও বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে মামুন আমাকে কয়েকবার ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের ফলে আমি অন্তঃসত্ত্বা হলে মামুনকে বিয়ে করতে বলি। মামুন আমার সন্তান নষ্ট করতে বলে। আমি রাজি না হলে মামুন বলে সন্তান নষ্ট না করলে বিয়ে করবে না। মামুনের কথামতো মামুনের দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পর আমার রক্তপাত শুরু হয়। আমি গুরুতর অসুস্থ হলে আমতলীর পূর্ণিমা নামের এক মহিলার নিকট আমাকে নিয়ে মামুন আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে।

 

কিছুদিন পর চলতি মাসের ৮ এপ্রিল বিকাল ৩টার সময় মামুন আমার দোকানে এসে বলেন, তোমার সাথে বিয়ের ব্যাপারে কথা আছে। মামুন আমাকে নিয়ে আমার দোকানের বারান্দায় যায়। মামুন বলেন, আগামী শুক্রবার সন্ধ্যার পরে আমি হুজুর নিয়ে আসব। আমাদের বিয়ে হবে। কথা বলার শেষ হলে মামুন আবার আমার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে চায়। আমি রাজি না হলে আগের মতো জোরপূর্বক মামুন আমাকে ধর্ষণ করে।

 

একদিন পরে আমি মামুনের দোকানে গিয়ে বলি, শুক্রবার সন্ধ্যার পরে বিয়ে হলে সেখানে কে কে থাকবে। এ সময় মামুন বলে, আমার পক্ষে বিয়ে সম্ভব নয়। আমার স্ত্রী বাড়িতে আছে। আমি ঘটনাটি আমার আত্মীয়স্বজনদের জানিয়ে মামলা করি।

 

এদিকে, মামুনের ফোন রিসিভ না করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৪:৩৯ ● ৫৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ