
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তাঁর বাবা ও বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। রবিবার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার নম্বর ৭৩৯।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া ১০টার দিকে রজপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তাঁর বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন মাটি কাটার ভেকু, ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগের জমিতে প্রবেশ করেন। তাঁরা জমির মাটি কেটে জমির আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা তৈরিতে বাধা দেন। এ সময় নুরুজ্জামান কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ধাক্কাধাক্কি এবং খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, পরে কাফি, তাঁর বাবা ও বড় ভাই ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের প্রায় ছয় শতাংশ জমি থেকে অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিতে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে স্তূপ করে রাখেন। পরে ওই জমিতে ছোট ছোট কংকর ফেলে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করা হয়। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, কলাপাড়ার বিএস জেএল নম্বর ৯-এর রজপাড়া মৌজার বিভিন্ন দাগে বিদ্যালয়ের মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করলেও কাফিসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা এতে রাজি হননি। পরে থানায় মামলা করতে গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের জমিজমা রক্ষায় তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ওই জমির ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনি বায়না সূত্রে জমিটি খরিদ করেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমের সঙ্গে তাঁর সামনাসামনি দেখা বা কথাও হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আদালত কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এমবি/এমআর