
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে গত ১০ দিন ধরে আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মিছিল প্রতিহতে উপজেলা ছাত্রদল রাজনৈতিকভাবে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে আমতলী পৌর শহরের ওয়াপদা সড়ক থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ফায়ার সার্ভিস এলাকা হয়ে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যায়। উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহার নেতৃত্বে প্রায় এক ঘণ্টা মিছিল করা হলেও তা প্রতিহতে ছাত্রদল বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ১১ জুলাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মতিন খানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মাথায় হলুদ ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ফায়ার সার্ভিস এলাকার প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেন। ১২ জুলাই উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নবাব তালুকদারের নেতৃত্বে হলদিয়া এলাকায় মিছিল করা হয়। এসব মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ছাত্রলীগের একটি সূত্রের দাবি, ১১ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত গত ১০ দিনে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমতলী পৌর শহর ও বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
এদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের প্রকাশ্য কর্মসূচির অভিযোগ উঠলেও তা প্রতিহতে উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি বা কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরে ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দল দুটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।
আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা মো. ইসফাক আহম্মেদ ত্বোহা বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আমরা মিছিল ও সমাবেশ করেছি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মতিন খান বলেন, বিনা বাধায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিতে হবে। দ্রুত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। দাবি মানা না হলে আন্দোলন পর্যায়ক্রমে আরও জোরদার করা হবে।
আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. ইমরান খান অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতার কারণে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিহত কর্মসূচি দিতে পারছি না। তারা ছাত্রলীগকে লালন-পালন করছেন।
তবে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতীতে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমি আমতলী থানায় যোগদানের পর থেকে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করতে দেওয়া হয়নি। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ যথেষ্ট সজাগ রয়েছে।
এমএইচকে/এমআর