
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী ৭ জনের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তৃতীয় শ্রেণিতে ২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়টির ক্যাচমেন্ট এলাকা ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম। এর চারপাশে আরও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের পাশের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি করিয়েছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়টি উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ এবং অনেক পরিবার শহরমুখী হওয়ায় শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, একসময় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তবে বর্তমানে শিক্ষার মান আগের মতো নেই- এমন ধারণা থেকে অনেকে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন। শিক্ষার মান উন্নত হলে শিক্ষার্থী সংখ্যা আবার বাড়বে বলে তাঁরা মনে করেন।
বিদ্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি প্রভাতী রানী বলেন, ‘আমাদের সময়ে বিদ্যালয়টিতে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হতে হবে। লেখাপড়ার মান উন্নত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে শিক্ষার্থী সংখ্যা আবার বাড়বে।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করছি। শিক্ষার্থী কম থাকায় প্রত্যেকের প্রতি আলাদাভাবে নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। পদটি পূরণ হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসম্মত পাঠদান এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে পুনরায় শিক্ষার্থীমুখী করার চেষ্টা চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কম থাকার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ এবং শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’