বরগুনায় সামাজিক বনায়নের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনায় সামাজিক বনায়নের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ২৬ মার্চ ২০২৬


 

বরগুনায় সামাজিক বনায়নের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ধূপতি-মনসাতলী এলাকায় সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অনিয়ম ও পরিমাপে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় উপকারভোগী, জমির মালিক ও এলাকাবাসীর দাবি- বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা, বনায়ন সমিতির নেতা এবং ঠিকাদারদের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ কাঠ গোপনে লোপাট করা হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে বন বিভাগ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

জানা গেছে, খাকধোন নদীর উত্তর পাড়ের বেড়িবাঁধ এলাকায় ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি গাছ রোপণ করা হয়। রেন্ট্রি, মেহগনি, শিশু, চাম্বল, অর্জুন, আকাশমনি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছের উপকারভোগী হিসেবে স্থানীয় ৩২ জনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি ছিলেন মো. আব্দুল আজিজ খান। নীতিমালা অনুযায়ী, গাছ বিক্রির অর্থের ৬৫ শতাংশ উপকারভোগীরা পাওয়ার কথা।

 

বন বিভাগের প্রস্তুত করা টেন্ডার সিডিউলে বিক্রয়যোগ্য গাছের সংখ্যা ৪৬৭টি এবং মোট কাঠের পরিমাণ ৩ হাজার ৫৫ দশমিক ২৯ ঘনফুট উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি কাঠ হিসেবে আরও প্রায় ১ হাজার ৪৬৯ ঘনফুট ধরা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে গাছের সংখ্যা সিডিউলের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ এবং পরিমাপে প্রতি গাছে গড়ে ১০ থেকে ১২ সিএফটি কাঠ কম দেখানো হয়েছে। এতে সহস্রাধিক ঘনফুট কাঠ কম দেখিয়ে সরকার ও উপকারভোগীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

 

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ৩৭৯ থেকে ৪০৩ নম্বর পর্যন্ত ২৪টি মেহগনি গাছ কোনো টেন্ডার ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মামুন খানের মাধ্যমে এসব গাছ সরিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর। একই সঙ্গে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার স্বজনরা টেন্ডারে অংশ নিয়ে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং জমির মালিকদের সঙ্গে ঠিকাদারদের বিরোধ চলছে।

 

স্থানীয় জালাল মোল্লা বলেন, ‘গাছ পরিমাপের সময় ব্যক্তিগতভাবে রোপণ করা কিছু গাছেও নম্বর দিয়ে সামাজিক বনায়নের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবার অর্থের বিনিময়ে কিছু গাছ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

 

বনায়ন কমিটির সদস্য ও পূর্ব ধূপতির বাসিন্দা মো. শানু খান জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তারা টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত রেখে গাছের প্রকৃত পরিমাপ পুনঃযাচাই, টেন্ডার ছাড়াই অপসারণ করা গাছের তদন্ত এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বরগুনা বন বিভাগের রেঞ্জ সহকারী মো. হাসান জানান, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি হয়নি। একটি মহল টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বিভ্রান্তিকর অভিযোগ দিচ্ছে।’ তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রেঞ্জ সহকারী পরিচয়ধারী ওই কর্মকর্তাই পুরো অনিয়মের মূল পরিকল্পনাকারী।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২১:৪৫ ● ৩০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ