
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট মোংলা বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি করেছে। এ কারণে পণ্য খালাসে বিলম্ব দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা এমভি হং টাং-৮৯ জাহাজটি ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ১৪ মার্চ নোঙ্গর করে এবং ১৬ মার্চ রাতে খালাস কাজ শুরু হয়। তবে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জাহাজ ত্যাগ করতে না পারায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো লাইটারেজ জাহাজ না থাকায় খালাস কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটেছে। একই সমস্যায় পড়েছে এমভি কেলিপ-সো এন, যা আমেরিকা থেকে ৫৮,৪৫৭,২৫১ মেট্রিক টন গম নিয়ে এসেছে, এবং এমটি পাইনিয়র, যা ১১ হাজার মেট্রিক টন চাল ভারত থেকে এনেছে।
সূত্রটি জানায়, মোংলা বন্দরের চ্যানেলে লাইটারেজ জাহাজের সারি থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তারা কার্যকরভাবে চলাচল করতে পারছে না। সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক (চলাচল ও পরিবহণ) আব্দুল সোবহান সরদার বলেন, ‘লাইটারেজ জাহাজের অভাবে জাহাজ থেকে সময়মতো পণ্য খালাস করতে পারছিনা। এতে প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।’
মাষ্টার ষ্টিভিডরস মেসার্স খালিদ ব্রাদার্সের ম্যানেজার কামরুজ্জামান শহিদ বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য খালাসের গতি কমেছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ মোংলা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের কারণে বন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। আশা করি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসব।’
মোংলা বন্দর শ্রমিক রিয়াজুল সাগরকন্যাকে বলেন, ‘আমরা বেকার হয়ে পড়ছি। কাজের সুযোগ নেই।’
জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোংলা বন্দরে ৫১৫টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ এসেছে। বন্দরের এই স্থবিরতা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। ব্যবসায়ীরা জনদূর্ভোগ লাঘবে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।