
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনায় একটি মামলায় বাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ায় রেবেকা বেগম নামে এক নারীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী কামাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে আমতলী উপজেলার শাখারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত রেবেকাকে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
জানা গেছে, শাখারিয়া গ্রামের কামাল হাওলাদার প্রতিবেশী নিজাম সিকদার ও হালিম মিস্ত্রির বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।
মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে রেবেকা বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজনের সাক্ষ্য নেয়। রেবেকা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কামাল হাওলাদার ক্ষুব্ধ হন বলে জানান আহত রেবেকা।
শুক্রবার দুপুরে রেবেকা কামাল হাওলাদারের বাড়ির পাশে একটি টেইলার্সের দোকানে পোশাক আনতে গেলে কামাল হাওলাদারের স্ত্রী রেক্সেনার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও চুলাচুলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কামাল হাওলাদার চাপাতি দিয়ে রেবেকাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার মাথা ও কপালে গুরুতর জখম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কুলসুম বলেন, রেবেকা আমার কাছে পোশাক নিতে এসেছিল। তাকে দেখে রেক্সেনা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। পরে কামাল হাওলাদার চাপাতি দিয়ে রেবেকাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন।
আহত রেবেকা বেগম বলেন, মামলায় পুলিশ তদন্ত করতে এলে আমি সত্য সাক্ষ্য দিয়েছি। এ কারণে কামাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী আমাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কামাল হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চাপাতি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মহুয়া বলেন, আহত রেবেকাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচকে/এমআর