দুই দশক পর সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি, সামনে কঠিন বাস্তবতা

হোম » লিড নিউজ » দুই দশক পর সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি, সামনে কঠিন বাস্তবতা
শনিবার ● ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সাগরকন্যা নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯টি আসন। সরকার সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। সে হিসেবে প্রায় দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার পথে দলটি।

 

দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির নেতৃত্ব এখন তারেক রহমানের হাতে। দলীয় প্রধান হিসেবে তাকেই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠন করলেই চ্যালেঞ্জ শেষ হবে না; বরং দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় নামতে হবে নতুন নেতৃত্বকে।

 

নীতিনির্ধারক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকবে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য হ্রাস, দুর্নীতির লাগাম টানা, সাম্প্রদায়িক উগ্রতার বিস্তার রোধ, দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা, সামষ্টিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার কথাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ এজেন্ডার পাশাপাশি কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা নতুন সরকারের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা হবে সবার জন্য সমান গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ভিত্তি করে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করা। তিনি বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি সক্রিয় হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে; তাই এ ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জরুরি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়গুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কূটনীতিতে পেশাদারিত্ব অপরিহার্য। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা, অনিয়মিত অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় আইনের শাসন জোরদার এবং দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও ভারত-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে বলেও মত তাদের। এ জন্য অভ্যন্তরীণ মৌলিক ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বড় জয়ের ফলে জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট ও উচ্চ হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যাপক অংশগ্রহণও নতুন নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে তাদের ধারণা। এখন দেখার বিষয়, সেই প্রত্যাশাকে নীতিগত ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় কত দ্রুত রূপ দেওয়া যায়।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৮:৩৫ ● ১১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ