
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
চলতি মাসে বরিশাল বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে মানুষ ও গবাদিপশুর ব্যাপক প্রাণহানী ঘটেছে। প্রতি বছরই প্রাক-বর্ষার সময়ে এমন ঘটনা বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সচেতনতা ও সঠিক সময়ে সতর্ক হলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।
বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে- এই তিন মাস মূলত প্রাক-বর্ষার মৌসুম। এ সময়েই বজ্রঝড়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে এবং বজ্রপাতের ঘটনাও ঘন ঘন ঘটে। আর এই বজ্রপাতের মূল কারণ হচ্ছে বিশেষ ধরনের মেঘ, যাকে বলা হয় বজ্রমেঘ।
বজ্রমেঘ চিনবেন কীভাবে
আকাশের দক্ষিণ-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিম দিকে যদি অস্বাভাবিক উঁচু ও ফুলে ওঠা মেঘ দেখা যায় এবং সেটি দ্রুত ওপরের দিকে বাড়তে থাকে, তাহলে সেটিই বজ্রমেঘ। বৈজ্ঞানিকভাবে একে বলা হয় কিউমুলোনিম্বাস বা থান্ডার ক্লাউড।
এই মেঘ ভূপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার, কখনো কখনো ১৮ থেকে ২২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচুতে বিস্তৃত হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন-
- আকাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে এলে
- দূরে বজ্রধ্বনি শোনা গেলে
- বাতাসের গতি হঠাৎ বেড়ে গেলে
- উঁচু, স্তূপাকার মেঘ দ্রুত তৈরি হতে থাকলে
এসব লক্ষণ দেখা গেলে দেরি না করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
কী করবেন-
- খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের পাশে অবস্থান না করা
- গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া
- বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা
- সম্ভব হলে পাকা ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তই জীবন বাঁচাতে পারে। বিশেষ করে কৃষক, জেলে ও খোলা স্থানে কাজ করা মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।