
সাগরকন্যা প্রতিবেদন, বরগুনা
দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতনের অভিযোগে বরগুনার সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৯ নভেম্বর একই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই আদেশের পর মো. জসিম উদ্দিন ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন এবং এরপর আর ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। বর্তমানে তিনি বান্দরবনে কর্মরত রয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী উপজেলার প্রান হরিদাস রোড এলাকার দক্ষিণ কাট্টলির বাসিন্দা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে বলে জানান বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু ও বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াসি মতিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী গত ৫ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মো. জসিম উদ্দিন বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় বাদীর গ্রামের একটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বাদী তখন বিবাহিত থাকলেও তাকে পূর্বের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। পরে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাদী মো. জসিম উদ্দিনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কিছুদিন একসঙ্গে থাকার পর ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর বাদীর কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
বাদী আরও বলেন, মো. জসিম উদ্দিন তার প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তাকে বিয়ে করেন এবং বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসের একটি কক্ষে বাসা ভাড়া করে তাকে সেখানে রাখতেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে বাধ্য হন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াসি মতিন জানান, মামলার পর ট্রাইব্যুনাল বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহকে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অভিযোগকে মিথ্যা বলা হলেও বাদীপক্ষ থেকে নারাজি দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আসামির বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।