রিসোর্ট মালিকসহ পর্যটক অপহরণ সুন্দরবনে ডাকাত মাসুম বাহিনীর প্রধান আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

হোম পেজ » পর্যটন » রিসোর্ট মালিকসহ পর্যটক অপহরণ সুন্দরবনে ডাকাত মাসুম বাহিনীর প্রধান আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার ● ৮ জানুয়ারী ২০২৬


 

রিসোর্ট মালিকসহ পর্যটক অপহরণ সুন্দরবনে ডাকাত মাসুম বাহিনীর প্রধান আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিক ও পর্যটক অপহরণের ঘটনায় ডাকাত মাসুম বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩)কে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় তার দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এসব কর্মকাণ্ড সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

কোস্ট গার্ড জানায়, গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কাঠের বোটযোগে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দুইজন পর্যটকসহ রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্ট গার্ডকে অবহিত করলে গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে টানা ৪৮ ঘণ্টার যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

 

এ ঘটনায় দস্যু চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) ও মোছা দৃধা (৫৫)-কে সুন্দরবন, দাকোপ ও খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

আটককৃতদের দেওয়া তথ্য ও ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি খুলনার তেরখাদা থানাধীন ধানখালী সংলগ্ন এলাকা থেকে ডাকাত মাসুম বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধাকে আটক করে কোস্ট গার্ড। পরে তার দেওয়া তথ্যে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি দেশীয় কুড়াল, ১টি দা, ১টি স্টিল পাইপ এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ডাকাত ও জব্দকৃত আলামতের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যুবিরোধী অভিযানে কোস্ট গার্ড ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার এবং জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী ও রাঙ্গা বাহিনী সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একাধিক ডাকাত সহযোগী আটক হওয়ায় ছোট সুমন বাহিনী, ছোটন বাহিনী ও কাজল মুন্না বাহিনী ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনী দমনে কোস্ট গার্ড টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৩১:২১ ● ৩২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ