
সাগরকন্যা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে এ ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ।
গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সোমবার সকাল ২টা ৪১ মিনিটে সেপ্টেম্বর সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুডের আগাম চুক্তির দাম ২ দশমিক ০৯ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে ওঠে। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭১ ডলার বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছায়।
এটি ব্রেন্টের ক্ষেত্রে গত ১১ জুন এবং ডব্লিউটিআইয়ের ক্ষেত্রে ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ দাম। গত সপ্তাহেই ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে যায়।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইএনজি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তেলের সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে বিকল্প নৌপথে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১৯ জুলাই) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র চারটি জাহাজ, যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল আটটি। বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং তেলের বৈশ্বিক মজুত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স