
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
লোহার কড়াই টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে খাবারে সামান্য পরিমাণ আয়রন যোগ করতেও সহায়তা করতে পারে। তবে সব ধরনের খাবার এতে রান্না করা উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে অম্লীয় (অ্যাসিডিক) উপাদানসমৃদ্ধ কিছু খাবার লোহার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় খাবারের স্বাদ, রং ও গুণগত মানে পরিবর্তন আনতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রান্নার পাত্রেও মরিচা ধরার ঝুঁকি বাড়ে।
টমেটো ও অন্যান্য অম্লীয় খাবার
টমেটো, লেবু, ভিনেগারসহ অম্লীয় উপাদান লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে। এতে খাবারে ধাতব স্বাদ চলে আসতে পারে এবং টমেটোর স্বাভাবিক রং ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে। একই কারণে তেঁতুল, কাঁচা আম বা অন্যান্য অম্লীয় উপাদানযুক্ত রান্নাও লোহার কড়াইয়ে না করাই ভালো।
ডিম
ডিমে থাকা সালফার লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করে ডিমের রং ধূসরাভ করে দিতে পারে এবং স্বাদেও পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে রান্না করলে কড়াইয়ের আবরণ নষ্ট হয়ে মরিচা ধরার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই ডিম রান্নায় নন-স্টিক বা স্টেইনলেস স্টিলের প্যান ব্যবহার করাই উত্তম।
মাছ
মাছে থাকা কিছু প্রাকৃতিক অম্লীয় উপাদান লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে। এতে মাছ কড়াইয়ের তলায় লেগে যাওয়ার পাশাপাশি এর স্বাদ ও গঠনও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই মাছ ভাজা বা রান্নার জন্য নন-স্টিক কিংবা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ভাত
লোহার পাত্রে ভাত রান্না করলে চালের রং কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে এবং ভাতে ধাতব স্বাদ চলে আসার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি ভাত কড়াইয়ের তলায় লেগে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। এ কারণে ভাত রান্নায় স্টেইনলেস স্টিল বা ভারী তলার নন-স্টিক পাত্র ব্যবহার করাই ভালো।
কখন লোহার কড়াই ব্যবহার করবেন?
সব খাবারের জন্য লোহার কড়াই অনুপযুক্ত নয়। কম অম্লীয় খাবার-যেমন বিভিন্ন ধরনের ভাজি, শাকসবজি, আলুভাজা, মাংস বা শুকনো তরকারি-রান্নায় এটি বেশ কার্যকর। এসব খাবার রান্নায় লোহার কড়াই ভালো তাপ ধরে রাখে এবং খাবারে সামান্য পরিমাণ আয়রন যোগ করতেও সহায়তা করতে পারে।
পরামর্শ: লোহার কড়াইয়ে অম্লীয় খাবার দীর্ঘ সময় রান্না বা সংরক্ষণ না করাই ভালো। রান্না শেষে দ্রুত অন্য পাত্রে খাবার তুলে ফেলুন এবং কড়াই ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে সামান্য তেল মেখে সংরক্ষণ করলে এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।