কাউখালীতে আমন চারার ভাসমান হাট

হোম পেজ » পিরোজপুর » কাউখালীতে আমন চারার ভাসমান হাট
শুক্রবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫


কাউখালীতে আমন চারার ভাসমান হাট

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কাউখালী (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালীতে জমে উঠেছে আমন ধানের চারার হাট। উপজেলার চিরাপাড়া নদীর ব্রীজের নিচে ভাসমান এই হাট বসে প্রতি শুক্রবার ও সোমবার। এই দুই দিন ভোর থেকেই আমন চারা বেচাকেনায় জমজমাট হয়ে ওঠে হাট।
গত বছরের তুলনায় এ বছর আমন ধানের চারার দাম একটু বেশি। তারপরও অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশি দামে চারা কিনছেন কৃষকেরা।
শুক্রবার (৫সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর রাতেই বসেছে চারা বেচাকেনার হাট। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকেরা বিক্রির জন্য শত শত নৌকা ও ভ্যান অটো রিকশায় করে নিয়ে আসছেন ধানের চারা।
জানাগেছে, ্এই এলাকার কৃষক তারা এখন কৃষি অফিসের সহায়তায় নিজেদের জমি জন্য বীতজ তলা তৈরি কারার পাশাপাশি বানিজ্যিক ভিত্তিতে ধানের চারা বিক্রি করার জন্য বীজ তলা তৈরি করে থাকে। কৃষি প্রনোদনা বীজ থেকে উফসি জাতের আমন চারা ১৮০দিনের মধ্যে জমি থেকে কর্তন করতে পারে।
কাউখালী উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখন চলছে আমন ধান আবাদের মৌসুম। কৃষকেরা মাঠের পরিচর্যা করে চারা লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া ও বীজতলায় জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ কৃষক সময়মতো চারা উৎপাদন করতে পারেননি। তবে, সব প্রতিকুলতা কাটিয়ে নতুন উদ্যোমে শুরু হয়েছে আমনের আবাদ। তাই, কৃষকেরা আমন ধানের চারা কিনতে ছুটছেন কাউখালীর চারার হাটে।
কাউখালী উপজেলার বেশিরভাগ জমি অন্য এলাকার তুলনায় উঁচু ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানে জলাবদ্ধতা নেই বললেই চলে। তাই বীজতলাও নষ্ট হয় না। এ কারণে অন্য এলাকার কৃষকেরাও আমন ধানের চারার সংকট কাটাতে কাউখালীর হাটে আসেন।
কাউখালীর স্থানীয় জাতের আমনের চারা ভালো মানের ও বেশি লম্বা হওয়ায় অন্য এলাকার কৃষকেরা ভিড় করেন এ হাটে। কাউখালী চারার হাট থেকে ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর, নেছারাবাদ, রাজাপুর উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ধানের চারা কিনে নিয়ে যান। এই হাটে আমন ধানের চারা পোন (৮০ মুঠো) হিসেবে বিক্রি হয়।  প্রতি পোন চারার মূল্য ১২শ’ টাকা থেকে ১৮’শত টাকা।
রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের কাঠীপাড়া থেকে চারা কিনতে আসা কৃষক মো. জসিম হাওলাদার বলেন, আমন চাষের জন্য বীজতলা তৈরির বীজ-ধান সংগ্রহ করা, তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদনে বেশ সময় লাগে। তাই কৃষকেরা এই হাটে এসে প্রয়োজনীয় চারা কিনে নিয়ে জমিতে রোপণ করেন। এতে জমির মালিকদের অর্থ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হয়।
চারা কিনতে আসা  নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা গ্রামের কৃষক সুভাষ রায় বলেন, এখন ধানের জমি চাষ করতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরি ছয় থেকে সাতশ’ টাকা দিতে হয়। এত টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরির চেয়ে চারা কিনে চাষাবাদ করলে খরচ অনেক কম হয়। আমাদের এলাকার জমি নিচু। এজন্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তাই, সময়মতো বীজতলা তৈরি করতে পারি না। এই হাটের চারাগুলো লম্বা ও ভালো মানের। তাই, সবসময় এখান থেকে চারা কিনেই জমিতে রোপণ করি।
কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোমা রাণী দাস বলেন, খোরপোষে কৃষি কে বানিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের এক অভিনব প্রচেষ্টা কাউখালীর কৃষকদের। ভাসমান বাজারে বীজতলা বিক্রি করে এই বছর প্রায় ২৪ লাখ টাকা আয় করেছেন এখানকার কৃষকরা। যা দেখে তরুন সমাজও কৃষিতে উদ্দোত্তা হয়ে উঠেছে।

 

আরএইচআর/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৫:৫৭ ● ২৩৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ