হত্যা মামলায় বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, আমতলীতে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

হোম পেজ » লিড নিউজ » হত্যা মামলায় বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, আমতলীতে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
সোমবার ● ১২ জানুয়ারী ২০২৬


 

হত্যা মামলায় বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, আমতলীতে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার আমতলীতে জহিরুল সিকদার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীকে আসামি না করতে বাদীকে পুলিশ কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামি করা এবং আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমানের শাস্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

 

নিহত জহিরুল সিকদারের স্ত্রী নুপুর বেগমের অভিযোগ, মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামি না করতে পরিদর্শক (তদন্ত) তাকে চাপ দেন এবং পাঁচ লাখ টাকার রফাদফার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরিদর্শক (তদন্ত) এর এমন আচরণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ফরিদ সিকদারের সঙ্গে তার ভাই মুনসুর সিকদারের দীর্ঘদিন ধরে ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদ সিকদার ওই জমি চাষ করতে গেলে মুনসুর সিকদার ছুরি নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় ডাকচিৎকার শুনে চাচাতো ভাই জহিরুল সিকদার ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মুনসুরকে নিবৃত করার চেষ্টা করলে তার পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জহিরুল সিকদার ঘটনাস্থলেই মারা যান।

 

নুপুর বেগমের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মুনসুর সিকদারের ছেলে ফারুক হোসেন জাকির। তার পরিকল্পনাতেই মুনসুর সিকদার এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। ঘটনার পরপরই ফারুক হোসেন জাকির পলাতক রয়েছেন।

 

এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী আমতলী থানায় মামলা করতে গেলে পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামি না করে শুধু দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা রুজু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাবিবা, পপি বেগম, নুরুননাহার, আম্বিয়া বেগম, আমিরুল খান ও মোস্তফা গাজীসহ স্থানীয়রা।

 

আমতলী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত মুনসুর সিকদার ও তার স্ত্রী শেফালী বেগমকে গ্রেপ্তার করে রবিবার বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলায় এখনো কথিত পরিকল্পনাকারী ফারুক হোসেন জাকিরকে আসামি করা হয়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইদুর ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও মামলায় আসামি করা হবে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরতই-খুদা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:২২:৪৯ ● ৩৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ