নেছারাবাদে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস তিন গ্রুপের পৃথক কর্মসূচিতে পালিত

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস তিন গ্রুপের পৃথক কর্মসূচিতে পালিত
রবিবার ● ৮ নভেম্বর ২০২৬


 

নেছারাবাদে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস তিন গ্রুপের পৃথক কর্মসূচিতে পালিত

সাগরকন্যা সংবাদদাতা, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের বিভক্তির কারণে একই দিনে তিনটি পৃথক গ্রুপ তিনটি মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। এতে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির চিত্র আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।

 

রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে পৃথক সময়ে ও স্থান থেকে মিছিলগুলো বের করা হয়। মিছিলগুলো পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৃথক স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নেছারাবাদ থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

সেখানে আলোচনা সভায় কাজী মো. কামাল হোসেন বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দেশের সর্বস্তরের জনগণ বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এমন কোনো খাত ছিল না, যেখানে উন্নয়ন হয়নি। জিয়া পরিবার এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

তিনি আরও বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। স্বরূপকাঠি পৌরসভার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর পৌরসভা গঠন করতে চান বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

এ সময় স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুর রহমান বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মন্টু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম মিজানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে আরেকটি র‍্যালি বের হয়। নতুন ডাকবাংলো থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

 

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম লিটু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন সজীব, সদস্যসচিব জিয়াউল হক সজীব এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব কাজী সাদ্দাম হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।

 

সভায় নাসির উদ্দিন তালুকদার বলেন, স্বরূপকাঠিতে বিএনপির কোনো গ্রুপিং চলবে না। গ্রুপ একটাই, আর সেই গ্রুপের নেতৃত্ব দেবেন পিরোজপুর-২ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত গণমানুষের নেতা ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু লোক একত্র হয়ে সুমনকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ নতুন ধারার রাজনীতি করার ঘোষণাও দিয়েছেন। বিগত ১৭ বছর তাঁরা কোথায় ছিলেন, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তৃণমূলের সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সুমনের হাত শক্তিশালী করাই তাঁদের অঙ্গীকার।

 

এদিকে, প্রায় একই সময়ে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে তৃতীয় মিছিলটি বের হয়। নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসানের নেতৃত্বে মিছিলটি বাজার রোড, তেঁতুলতলা ও পুরাতন থানা সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বক্তব্য দেন।

 

একই দিনে তিনটি পৃথক গ্রুপের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

 

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনটি গ্রুপ একই দিনে পৃথক স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করেছিল। তবে কর্মসূচি চলাকালে কোনো সমস্যা হয়নি।

 

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ফকরুল আলম বলেন, বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কোনো কমিটি না থাকায় নেতারা হয়তো নিজ নিজ সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরতে তিনটি পৃথক গ্রুপে কর্মসূচি পালন করেছেন। সবাইকে একত্র হয়ে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হলেও কেউ তাতে সাড়া দেননি। এ কারণে তিনি নিজে সরেজমিনে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি। তবে তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, উপজেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের অনৈক্য থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কমিটি গঠন করা হলে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

দীর্ঘদিন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি না থাকা এবং নেতৃত্বের বিভক্তির কারণে দলটির অভ্যন্তরীণ দূরত্ব যে এখনো কাটেনি, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে তিনটি পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৭:৪৩ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ