কনে দেখতে গিয়ে হবু স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিয়ে ভেঙে দেওয়ায় মামলা

হোম » বরগুনা » কনে দেখতে গিয়ে হবু স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিয়ে ভেঙে দেওয়ায় মামলা
রবিবার ● ৮ নভেম্বর ২০২৬


 

প্রতীকী চিত্র

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার পাথরঘাটায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করতে কনে দেখতে গিয়ে হবু স্ত্রীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই যুবক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিয়ে ভেঙে দেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। এ ঘটনায় হবু বরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন তিনি।

 

রবিবার (৮ নভেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পটুয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

মামলার প্রধান আসামি মামুন (৩৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার তালুকের চরদুয়ানী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। অন্য দুই আসামি হলেন তাঁর বাবা জয়নাল আবেদীন ও বড় ভাই জহির।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামুন ও ওই তরুণী পরস্পরের প্রতিবেশী। একপর্যায়ে মামুন তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রথমে রাজি না হলেও পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের আলোচনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

 

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২০ অক্টোবর দুপুরে মামুন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কনে দেখতে তরুণীর বাড়িতে যান। এর আগে দুই বাড়িতেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর পরিবারের মুরব্বিরা কনের ঘরে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় মামুন কৌশলে তরুণীকে নিজের খালি ঘরে নিয়ে যান। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

 

ভুক্তভোগী তরুণীর ভাষ্য, ঘটনার সময় মামুন তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, রাতে তাঁদের বিয়ে হবে। তাই শারীরিক সম্পর্ক করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে তিনি রাজি না হলেও মামুন তাঁকে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন তরুণী।

 

এদিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে গিয়ে মামুনের ঘরে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মামুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উল্টো তরুণীকে অপবাদ দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

তরুণী বলেন, তাঁদের বিয়ের সব প্রস্তুতি চলছিল। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়েছিল। রাতে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মামুন তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর অভিযোগ, মামুনের বাবা ও বড় ভাইও তাঁকে অপবাদ দিয়ে বিয়ে ভেঙে দিতে সহযোগিতা করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মামুন তাঁকে বিয়ে করবেন, এমন আশায় এত দিন অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেননি।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামলার প্রধান আসামি মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫১:৩৩ ● ১৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ