সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের প্রস্তুতিকালে তিন কিশোর-কিশোরীসহ ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিজিবির অভিযান টের পেয়ে নৌকায় করে সাগরে পালিয়ে যায় পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রবিবার(৮ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
বিজিবি জানায়, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকা দিয়ে কয়েকজনকে জোরপূর্বক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘাটে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহজনক নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে সেটিকে ধাওয়া করেন তাঁরা।
একপর্যায়ে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য দ্রুত নৌকায় উঠে সাগরের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা ৯ জনকে উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ ও ১৬ বছর বয়সী দুজন কিশোর এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে। তাঁদের কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। অন্যরা কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী ও উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার ব্যক্তিরা তাঁদের জোরপূর্বক মানব পাচারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।